ইউরোর গ্রুপ পর্বে চমক দেখিয়েছে অস্ট্রিয়া। ফ্রান্সের কাছে হারলেও একমাত্র গোলটি হয়েছিল আত্মঘাতী। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের কঠিন পরীক্ষা নেওয়ার পর পোল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল তুরস্ক, গত মার্চেই যাদেরকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল। মঙ্গলবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফেভারিট ছিল অস্ট্রিয়া। কিন্তু ইউরো ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল করে তাদেরকে ব্যাকফুটে ফেলে দেয় তুরস্ক। অস্ট্রিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও তুর্কিরা তাদের থামিয়ে ২-১ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে।
লাইপজিগে তুরস্ক ও অস্ট্রিয়ার শুরুটা হয়েছিল আগ্রাসী। মাত্র ৫৭ সেকেন্ড লেগেছে গোল হতে। ইউরোর ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল করে তুর্কিদের এগিয়ে দেন মেরিহ দেমিরাল।
কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেনি অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ। বাউমগার্টনার বল বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বল তার সতীর্থ ডিফেন্ডার পোশের গায়ে লেগে গোলমুখে ছুটছিল। অস্ট্রিয়ান কিপার পেঞ্জ নিচু হয়ে বল ফিরিয়ে দেন। দেমিরালকে জাল কাঁপাতে একটুও কষ্ট করতে হয়নি।
ষষ্ঠ মিনিটে অস্ট্রিয়া বিশাল সুযোগ পায়। কর্নার থেকে কাছের পোস্টে উড়ে আসা বল রুখতে পারেননি তুর্কি রক্ষণভাগ ও গোলকিপার। গোললাইন থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে দিয়ে যায় বল, বাউমগার্টনার অল্পের জন্য বলটা জালে ঠেলে দিতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে অস্ট্রিয়া গোলের দারুণ সুযোগ নষ্ট করে। ৫১ মিনিট একা গোলকিপারকে পেয়েও বক্সের মধ্যে থেকে মার্কো আরনাউতোভিচ গোল করতে ব্যর্থ হন। তার নিচু শট সহজেই ধরে ফেলেন মার্ত গুনোক। তিন মিনিট পর পোশ সরাসরি তুর্কি কিপারকে বল তুলে দেন।
ম্যাচ ঘড়ি ঘণ্টার কাঁটা না ছুঁতেই তুরস্ক দুই গোলে এগিয়ে যায়। কর্নার কিক থেকে গুলারের ক্রস কাছের পোস্টে পেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে হেড করে লক্ষ্যভেদ করেন দেমিরাল।
বল পায়ে রাখায় আধিপত্য বিস্তার করলেও দুই গোলে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। ৬৬ মিনিটে কর্নার কিক থেকে স্যাবিটাইজার বক্সের মাঝে বল বাড়ান। তারই অস্ট্রিয়ান সতীর্থ হেড করে বল পাঠান দূরের পোস্টে। সহজেই জালে বল জড়ান গ্রেগরিটশ।
এক গোলে পিছিয়ে থাকায় একটু হলেও চাপে ছিল তুরস্ক। শেষ পর্যন্ত এই স্কোর ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে তুরস্ক। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে বাউমগার্টনার তুর্কি ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। উঁচুতে লাফিয়ে শক্তিশালী হেড করেন দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে। তুর্কি কিপার মার্ত অসাধারণ দক্ষতায় ম্যাচ জয়ী সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শটটা তিনি ঠেকাতে না পারলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়েই যেতো।
এই হারে ‘টুইসডে ম্যাজিক’-এর শেষ দেখলেন অস্ট্রিয়ার কোচ র্যাগনিকে। তার অধীনে দলটি মঙ্গলবার খেলা ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতেছে। এবার হলো উল্টো।
গত দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া তুরস্ক এবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। ইউরোতে এর আগে পাঁচবার অংশ নেওয়া তুর্কিরা সেরা সাফল্য পেয়েছিল ২০০৮ সালে। ওইবার জার্মানির কাছে হেরে তৃতয়ি হয়েছিল তারা।