উরুগুয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ স্কোরার লুই সুয়ারেস। কিন্তু দিন যেভাবে গড়াচ্ছে তাতে নিজেও বুঝতে পারছেন অবসর হয়তো খুব বেশি দূরে নয়। বলা যায় বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষের শুরুটা এই কোপা আমেরিকাতেই দেখতে পেয়েছেন। তার পরেও শেষটা উপভোগের আশা উরুগুয়ে স্ট্রাইকারের।
৬৮টি আন্তর্জাতিক গোল করা সুয়ারেস আর পাদপ্রদীপের আলোয় নেই। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। তাও আবার শেষ দিকে। সব মিলিয়ে আট মিনিটের মতোন। তাতে কোনও অভিযোগ নেই উরুগুয়ের অভিজ্ঞ তারকার। তিনি বরং শেষের কাছে বলে উপভোগের মন্ত্রে চলতে চাইছেন, ‘আমি প্রতিটি মুহূর্ত এখন উপভোগ করছি। আমার মতো বয়সে এটা এমন একটা ব্যাপার, খেলার সুযোগ থাকুক বা না থাকুক উপভোগটাই আসল ব্যাপার। কারণ এটা বুঝতে পারছি ফুটবলের সেই প্রদীপটা এখন নিভু নিভু।’
একটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুয়ারেস বলেছেন, ‘আমি এখন এই দলে আরও একজন খেলোয়াড় মাত্র। যেটা এরই মধ্যে দেখার অভ্যাস হয়ে গেছে। খেলতে পারি কিংবা না পারি আমি যে ভূমিকাতেই থাকি, তাতে ভীষণ সন্তুষ্ট। যতটা দলকে সহায়তা করা যায়।’
কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণে কাল সকাল ৭টায় উরুগুয়ের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে সুয়ারেসের আস্থা তরুণদের ওপরই, ‘বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এই দলটাই ব্রাজিলকে হারিয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে। তারা সেই শক্তিটা মাঠেই অর্জন করেছে। এই আত্মবিশ্বাসটাও অর্জন করেছে, তারা যে কাউকেই হারাতে পারে। এখন সেটা প্রমাণের সুযোগ এসেছে। ফলে আমাদের জন্য কালকের ম্যাচটা দারুণ পরীক্ষার।’
সুয়ারেজ যে পজিশনে খেলে থাকেন সেই একই জায়গায় খেলছেন ২৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ডারউইন নুনেজ। তরুণ এই স্ট্রাইকার অভিজ্ঞ সুয়ারেসের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই পথ চলছেন। প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। গোলও করেছেন দুটি। তাকে দিক-নির্দেশনা দিয়ে নানাভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন সুয়ারেস, ‘যতটুকু পারা যায় আমি তাকে সাহায্য করছি। আমি ডারউইনের জায়গাতেই খেলতাম, যখন ডারউইনের বয়সে ছিলাম। এল লোকো (সেবাস্তিয়ান আব্রিউ) আমাকে প্রথম দিকে সহায়তা করতো। আমিও একই অবস্থানে থাকায় ডারউইনের জন্যও কাউকে না কাউকে প্রেরণার জায়গায় থাকতে হবে।’