হারের পর মারামারিতে জড়ালেন উরুগুয়ে খেলোয়াড়রা

কোপা আমেরিকা থেকে ছিটকে যাওয়ার পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন উরুগুয়ের লিভারপুল তারকা ডারউইন নুনেজ। গ্যালারিতে সমর্থকদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়েছেন তিনি।

সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর ঘটে এমন ঘটনা। তখন ব্যাংক অব স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ৭০ হাজার সমর্থক। আর মারামারির ঘটনাটি ঘটেছে কলম্বিয়ার সমর্থকদের গ্যালারিতে।

মাঠের বেশির ভাগ সমর্থক অবশ্য কলম্বিয়াকেই সমর্থন করছিল। তার পরেও গ্যালারিতে দুই পক্ষের মাঝে কোনও বিভেদ দেখা যায়নি। কিন্তু সহিংসতা ছড়িয়েছে মূলত শেষ বাঁশি বাজার পরে।

ভিডিওতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন উরুগুয়ে খেলোয়াড় ঘুষি ছুড়ে মারছেন। মূলত নিজেদের রক্ষার্থেই। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী ভঙ্গিতে ছিলেন নুনেজ। দুই পক্ষের মারামারি চলতে থাকে বেশ কয়েক মিনিট পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত।

এই ঘটনায় দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল অবশ্য তদন্তের কথা জানিয়েছে। তারা বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফুটবলের ক্ষতি করে এমন কিছুর তীব্র নিন্দা জানায় কনমেবল।’

হাতাহাতির ঘটনায় কেন্দ্রীয় চরিত্রের মধ্যে নুনেজের সঙ্গে ছিলেন রোনাল্ড আরাউহোও। পরে উরুগুয়ে অধিনায়ক মারিয়া জিমিনেজ জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতেই আক্রমণে বাধ্য হন তারা, ‘সব কিছু বন্ধ করার আগে আমাকে কিছু বলতেই হবে। কারণ তারা মাইক্রোফোনে আমাদের কথা বলতে দেবে না। যা হচ্ছে সেসব নিয়ে কথা বলতে দেবে না। কারণ এটা ছিল পুরোপুরি বিপর্যয়। অনুগ্রহ করে সতর্ক থাকবেন, আমাদের পরিবারের লোকেরা গ্যালারিতে। সেখানে নবজাতক শিশুও আছে। সেখানে পুরোপুরি বিপর্যয় ঘটেছে। কোনও পুলিশ ছিল না। আমাদের পরিবারের আত্মরক্ষা করতেই হতো।’

তার কথাতেই বোঝা গেলো কিছু উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকের অশালীন আচরণেই ঘটনার সূত্রপাত, ‘দুই তিনজন লোকের ভুলে। যারা অনেক বেশি পান করে ফেলেছিল। যারা মোটেও জানে না কীভাবে পান করা লাগে।’

মাঠে কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের খেলোয়াড়ের পাশাপাশি স্টাফরাও সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসা পরে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘আমি মনে করেছিলাম তারা সমর্থকদের বুঝি ধন্যবাদ দিচ্ছে। কিন্তু পরে জেনেছি সেখানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ঝামেলা হয়েছে।’