মারামারির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র, কনমেবলকে দুষছেন উরুগুয়ে কোচ

কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন উরুগুয়ে খেলোয়াড়রা। সেই ঘটনায় উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসা শিষ্যদের পক্ষেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এখনতো আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলকে দুষছেন তিনি। 

কলম্বিয়ার কাছে পরাজয়ের পরই ঘটে সেই অঘটন। ডারউইন নুনেজরা স্ট্যান্ডে লাফিয়ে উঠে কলম্বিয়া দর্শকদের সঙ্গে মারামারিতে জড়ান। পরে উরুগুয়ে অধিনায়ক এই ঘটনার ব্যাখ্যায় বলেছেন, তারা পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থেই এমনটা করেছিলেন। কিন্তু কনমেবল সেদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর তদন্তের কথা জানিয়েছে। শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়রাও ঝামেলায় জড়িয়েছেন। 

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে বিয়েলসা ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে কথা বলেছেন, ‘কথা বলার জন্য হুমকি পেলে একজনকে সেসব ভেবে কথা বলতেই হবে। এসব পরিস্থিতিতে মানুষ যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, ওরা সেভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তখন ওই পরিস্থিতি থেকে পালানোর সুযোগ ছিল না। খেলোয়াড়দের স্ত্রী, বান্ধবী, মা এবং শিশু সন্তানদের আক্রমণ করা হচ্ছিল। তখন ওরা কী করবে?’

এই ঘটনা যেভাবে মিডিয়া কভারেজ পেয়েছে, সেটারও সমালোচনা করেন সাবেক লিডস ইউনাইটেড কোচ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো নিরাপদ দেশে এমন ঘটনা ঘটায় সেটারও সমালোচনা করেন তিনি। বিয়েলসার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উরুগুয়ে খেলোয়াড়রা ক্ষমা প্রাপ্য। তিনি নিরাপত্তার অভাব ও মাঠের কন্ডিশন নিয়ে কনমেবল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন, ‘ওরা বলেছে মাঠ নাকি দারুণ কন্ডিশনে আছে। কিন্তু সব ছিল মিথ্যা। মাঠের ঘাসগুলো সবজায়গায় নেই। তারা আবার এটাও বলে অনুশীলন সুবিধা নাকি ঠিক আছে। কিন্তু বলিভিয়া অনুশীলনই করতে পারেনি। আমার কাছে ছবি আছে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট।’  

উরুগুযে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বলেছে, মাঠে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। বিবৃতিতে তারাও পরিবারের ওপর আক্রমণের কথা বলেছেন। সেখানে উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের এমন প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে দেখা হলেও আগ্রাসী আচরণের নিন্দা জানানো হয়েছে, ‘যা হয়েছে তার প্রেক্ষিতে খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল অনিযার্য এবং স্বাভাবিক। কিন্তু সেটার নিন্দা জানাই আমরা।’