ফাইনাল দেরিতে শুরু হওয়ার প্রভাব পড়েছিল কলম্বিয়া-আর্জেন্টিনার ওপর!

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বিনা টিকিটে দর্শকের প্রবেশ ঠেকাতে ৮২ মিনিট পর শুরু হয় কোপা আমেরিকার ফাইনাল। তারই প্রভাব দলের খেলোয়াড়দের ওপর পড়েছিল বললেন কলম্বিয়া কোচ নেস্তর লরেঞ্জো। একই সঙ্গে স্বীকার করলেন, আর্জেন্টিনা ফুটবলে একটি স্বর্ণযুগ তৈরি করছে।

দর্শকদের হুড়োহুড়ি ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কথা তুলে ধরে লরেঞ্জো বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এই ম্যাচের জন্য আমরা খুব ভালোভাবে তৈরি হয়েছিলাম। কিন্তু তারপর কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে শুরু করলো।’

প্রথমার্ধ শেষে শাকিরার নৃত্যকলার কারণে হাফটাইম হয়েছিল ২৫ মিনিটের। সেটাও মনে করিয়ে দিলেন কলম্বিয়া কোচ, ‘(খেলোয়াড়রা) ওয়ার্ম আপ করছিল, তারপর বিশ্রাম নিয়ে কিক অফের আগে আবার ওয়ার্ম আপ করতে হলো। এরপর হাফটাইম ছিল ২৫ মিনিটের, দুই দলের জন্যই অদ্ভুত ব্যাপার।’

এসব ঘটনার প্রভাব বেশ ভালোভাবে পড়েছিল তৃতীয় কোপা আমেরিকা ফাইনাল খেলতে নামা কলম্বিয়ার ওপর। লরেঞ্জো বললেন, ‘ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা যাদের কম, সাধারণত তাদের মধ্যে টেনশন বেশি কাজ করে। আর আমাদের ক্ষেত্রে সেটার প্রভাব পড়েছে। ফাইনালে খেলা সবার জন্য সহজ নয়, পুরো টুর্নামেন্টে ২১ দিনে ছয় ম্যাচ খেলে ছেলেরা বেশ ক্লান্ত ছিল।’

খেলা চলাকালে ছয়জনকে উঠিয়ে নিতে বাধ্য হন লরেঞ্জো, ‘একটা ব্যাপার আমাকে অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে, আমি যেসব খেলোয়াড়কে বদলি উঠিয়ে নিয়েছি, তাদের সবারই ক্র্যাম্প ছিল, কারও কারও দুই পায়ে। সবাই নিজ থেকে মাঠ ছাড়তে চাচ্ছিল।’

খেলা দেরিতে শুরু হওয়ার প্রভাব আর্জেন্টিনার ওপরও পড়েছিল বললেন কোচ লিওনেল স্কালোনি, ‘খেলার আগে যা ঘটলো সেটা ব্যাখ্যা করা কঠিন, বোধগম্যও নয়। খেলোয়াড়রা তাদের পরিবারের আসার অপেক্ষায় স্টেডিয়ামের বাইরে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। ওই অবস্থায় আমাদের ম্যাচ খেলতে হলো, তখনও কেউ জানে না তাদের পরিবার কোথায়। কোনও মেসেজ নেই, কেউ উত্তর দিচ্ছিল না। আমরা কিছু ভিডিও কেবল দেখছিলাম, কী হচ্ছিল কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। আমি মনে করি কলম্বিয়ার ছেলেরাও একই পরিস্থিতিতে ছিল, খুব অদ্ভুত।’