বনের সংরক্ষিত জায়গায় স্থাপনা পরিবেশের জন্য হুমকি, এই কারণে কক্সবাজারে রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ে বাফুফের ফিফা অর্থায়নে ট্রেনিং সেন্টার নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল আগে থেকেই। তাদের প্রতিবাদ আমলে নিয়ে সরকার বাফুফে ট্রেনিং সেন্টারের স্থান পুনর্নির্ধারণের আদেশ দিয়েছে। আজ রবিবার এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব বাফুফে সাধারণ সম্পাদককে প্রদান করেছেন।
বাফুফে বনের মধ্যে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং মৌজায় ২০ একর জমি পেয়েছিল ফিফার অর্থায়নে। সংরক্ষিত জমিটি বন অধিদপ্তর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করেছিল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে সেই জমি পায় বাফুফে। এরই মধ্যে একটি জায়গা বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাফুফেকে কক্সবাজারে একই উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের ধলিরছড়া মৌজার অর্ন্তগত দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত প্রায় ১৯.১ একর জায়গার কথা জানিয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চিঠি নিয়ে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সরকার জায়গা দিয়েছিল, বাতিল করার এখতিয়ারও তাদের আছে। আর ফুটবলের উন্নয়নের জন্য একটি ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ দরকার। এজন্য ঢাকার নিকটবর্তী খাস জমি বিকল্প হিসেবে প্রদান করার অনুরোধ থাকবে আমাদের।’
এই ট্রেনিং সেন্টারের জন্য বাফুফে ফিফার কাছ থেকে পাবে ৩৩ লাখ ডলার। পরিবেশগত ইস্যুর কারণে বাফুফের কাছ থেকে ফিফা পরিবেশ সমীক্ষা রিপোর্ট চেয়েছিল। প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করে এই রিপোর্ট বাফুফে করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দলকে দিয়ে। কিন্তু সরকারি আদেশে জায়গা বাতিল করায় বাফুফে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এনিয়ে ইমরান হোসেন বলেন, ‘ফিফার নির্দেশনা মেনে আমরা পরিবেশের সুরক্ষায় এটি করেছিলাম। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা পুনরায় জায়গা না পেলে এই অর্থ গচ্চাই যাবে। আর এর মধ্যে জায়গা পেলে ফিফার কাছ থেকে এই ব্যয় আদায় করতে পারবো।'