বাফুফে নির্বাচন ২০২৪

প্রার্থীকে ডেকে একটি পদ বাছাইয়ে ‘বাধ্য’ করা নিয়ে যা বলছে নির্বাচন কমিশন

বাফুফে নির্বাচনে আজ বুধবার ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন। দেখা গেছে যারা দুটি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের নির্বাচন কমিশন থেকে ডেকে একটি চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। সাধারণত প্রত্যাহারের দিনে প্রার্থী সেটা ঠিক করে থাকেন, এমন ধারণা সংশ্লিষ্টদের। এনিয়ে আজ বাফুফে ভবন বেশ উত্তপ্ত ছিল।

বাফুফে নির্বাচনে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ইকবাল হোসেন সহসভাপতি ও সদস্য এবং তৃতীয় বিভাগের ক্লাব এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউন্সিলর শাহাদাত হোসেন জুবায়ের সভাপতি ও সদস্য পদে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এই দুজনকে আজ একটি পদে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা প্রেরণ করে নির্বাচন কমিশন। শাহাদাত দুপুরের আগেই সভাপতি পদ থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করে সদস্য পদে নির্বাচন করার বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন। তাতে সভাপতি পদে এখন তাবিথ আউয়ালের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী থাকছেন দিনাজপুরের তৃণমূলের সংগঠক মিজানুর রহমান চৌধুরী। 

অন্যদিকে, ইকবাল দুপুরে সশরীরে ভবনে এসে শেষ পর্যন্ত সহসভাপতি পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। 

ইকবাল সরে যাওয়ায় এখন চার সহসভাপতি পদের বিপরীতে প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। শাহরিয়ার জাহেদী, ফাহাদ করিম, ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি, সাব্বির আহমেদ আরেফ, শফিকুল ইসলাম মানিক ও সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির এই চারটি পদের জন্য লড়বেন।

বুধবার বিকালে বাফুফে ভবনে ঘণ্টা দুয়েক যাচাই-বাছাই শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন বলেছেন, ‘৫২টি পদে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে দুইজন প্রত্যাহার করেছেন। বৈধ রয়েছে বাকি ৫০টি মনোনয়নপত্র। এই মনোনয়নের ওপর আপত্তি থাকলে কাল (বৃহস্পতিবার) দাখিল করতে পারবে, এর পরদিন শুনানি। শনিবার আমরা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবো।’

তবে আজ প্রার্থীদের ডেকে কেন একটি পদে নির্বাচন নিশ্চিত করতে বলা হলো, যেখানে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট তারিখ আছে।

১৯ অক্টোবর শনিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন। ২০ অক্টোবর রবিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম। সেদিন বিকালে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। 

এই প্রসঙ্গে মেজবাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘যা হয়েছে আইন মেনেই করা হয়েছে। একজন প্রার্থী এক পদেই নির্বাচন করতে পারবে। তাই আজই দুজনকে ডেকে বলা হয়েছিল। তারা তাদের কাজটি করেছে। আর প্রত্যাহার মানে হলো নির্বাচন কোনও পদেই করবো না। তাই প্রত্যাহারের দিন দুই পদের একটি চূড়ান্ত করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন কিংবা অন্য কোথাও এমনটি হয় না।’

মেজবাহ গত চার নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হয়ে কাজ করেছেন। গতবারই তাকে নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। তবে মেজবাহ বলেছেন, ‘এর আগে কখনও বাফুফে নির্বাচনে একজন দুই পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। তাই আগে এমন ঘটনা হয়নি, যা হয়েছে আইনসিদ্ধ।’