হাভিয়ের কাবরেরাকে নিয়ে এখনও সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে সিঙ্গাপুরের কাছে হারের পর স্প্যানিশ কোচের বিদায় চেয়েছিল অনেকেই। কিন্তু কাবরেরার ওপরই ভরসা রেখেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এমনকি তাকে সাহায্য করার জন্য তিন সদস্যের উপকমিটিও করা হয়েছে। সেই কমিটির অন্যতম সদস্য ছাইদ হাসান কানন তো অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অনুশীলনে এসে কাবরেরার কোচিং পদ্ধতি ও টিম ম্যানেজমেন্টের সমালোচনা করে গেছেন। জাতীয় দল ও কোচ প্রসঙ্গ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে বিশদ কথা বলেছেন সাবেক এই তারকা গোলকিপার-
আপনি এই সময়ে কী মনে করে কাবরেরার সমালোচনা করতে গেলেন...
কানন: আসলে আমি ঠিক সমালোচনা বলবো না। ওর ভুলগুলো নিয়ে কথা বলেছি। সিঙ্গাপুর ম্যাচে কাবরেরা যেসব ভুল করেছেন তা ঠিক হয়নি। ওই ভুলগুলো না হলে হয়তো আমরা ম্যাচ হারতাম না।
কী ভুল ছিল, আবার একটু বলবেন...
কানন: ম্যাচের দিন হোটেল থেকে দল যখন এসেছে, হেড কোচ দেরিতে এসেছে। এটা আমরা দেখেছি। একসঙ্গে চার জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা একজন কোচ, সাবেক খেলোয়াড় ও জাতীয় দল কমিটির সদস্য হিসেবে আমার কাছে খারাপ লেগেছে।
আল আমিন নামার পর রাকিব কেন রাইট ব্যাক হয়ে গেলো। জামালকে কেন নামালো হলো না। তার সেটপিসে ভুটান ম্যাচে হামজা গোল করেছিল। সিঙ্গাপুর ম্যাচে আমরা ১১ সেটপিস পেয়েছি। জামাল থাকলে হয়তো একটা গোলের সুযোগ পেতাম।
ম্যাচে যখন বাংলাদেশ আক্রমণে, তখন আমরা খেলোয়াড় বদলের জন্য আগে কার্ড দিয়েছি অথচ প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় আগে নেমেছে। চার মিনিট সেখানে নষ্ট হয়েছে। এতে খেলার টেম্পো স্লো হওয়ায় প্রভাব পড়েছে। হামজা নিজেও মাঠ থেকে বারবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল, যা ছিল দৃষ্টিকটু।
আপনি এসব কথাবার্তা জাতীয় টিমস কমিটির সভায় আলোচনা করেছিলেন?
কানন: হ্যাঁ করেছি। অনেক কথাই আলোচনায় এসেছে। তারপর তো আমাকে নিয়ে তিন সদস্যের উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জন্য আরেকটি কমিটি হয়েছে।
উপকমিটির কাজ কী?
কানন: আমরা কোচকে নানানভাবে সাহায্য সহযোগিতা করবো। যেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সুবিধা হয়।
সাধারণত নতুন কোচের বেলাতে এসব হয়ে থাকে। অনেক কিছু চেনাতে-জানাতে ও বলতে হয়। কাবরেরা তো কোচ হয়ে আছেন তিন বছরের বেশি সময় ধরে। এই সময়ে তো একজন কোচের অনেক কিছুই জানা উচিত। তার বেলাতে কেন এখন আপনাদের সরাসরি সাহায্য লাগবে?
কানন: দেখুন কাবরেরা যে ভালো করতে পারেনি তা সবাই বুঝে গেছে। তাই তার সামনে যেন ভুলত্রুটি কম হয়, তাই সাহায্য করার জন্য আমরা পাশে আছি। দেশের স্বার্থে ও দলের স্বার্থে।
আপনাদের হাতে অক্টোবরে হংকং ম্যাচের আগে সময় ছিল। কাবরেরার বিকল্প কেন খুঁজলেন না?
কানন: এটা বাফুফে সভাপতি ভালো বলতে পারবেন। তিনি টিমস কমিটিরও চেয়ারম্যান। আর একটা কথা, ভালো কোচ তো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভারত পায়নি। সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের একই দশা।
যতটুকু জানি আপনারা কাবরেরাকে ১৩ হাজার ডলার বেতন দেন। এই বেতনে তার চেয়ে ভালো কোচ নেই!
কানন: আপাতত মনে হয় নেই। সভাপতি তো বলেছেন ভালো কোচ খুঁজতে। সভাপতি তো চেষ্টা করে যাচ্ছেন ফুটবল উন্নয়নের। তার চেষ্টার কোনও ত্রুটি দেখছি না। কিন্তু ভালো কোচ আপাতত পাচ্ছি না কেউই।
আপনারা কোচের সঙ্গে বসেছিলেন। সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর। তার ভুলত্রুটি নিয়ে কথা বলার জন্য...
কানন: নাহ, কমিটির অনেকেই কথা বলতে পারিনি। বলতে পারলে ভালো হতো। তার কাছ থেকে সরাসরি জবাব জানতে পারতাম। তবে শুনেছি চলার পথে কারও কারও সঙ্গে কথা হয়েছে!
এই যে কোচের নানান দিক নিয়ে সমালোচনা করছেন, এর আগে তো কোচের সরাসরি সমালোচনা ও বরখাস্তের দাবি জানিয়ে শাখওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহিনকে টিমস কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আপনার বেলাতে যদি এমনটি হয়?
কানন: দেখুন, আমি একজন জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার। অধিনায়ক। মোহামেডানের গোলকিপিং কোচ। রাজনীতি করি। দেশের ফুটবলের উন্নয়নে নির্বাচিত হয়ে বাফুফেতে এসেছি। এখন এখানে তো আমি চা-কফি খেতে আসি না। আমার কাজ হলো ফুটবলের জন্য ভালো মন্দ যা হয় তা বলা। কাজ করে দেখানো। কাবরেরা যা করেছে তা যদি সংশোধন না হয় তাহলে দল সামনে ভালো করবে কীভাবে। তাই শুধু কাবরেরা নয়, টিম ম্যানেজমেন্টেরও সমালোচনা করেছি। কেউ ভুল করলে তো বলতেই হবে। আমি যা করছি তা দেশের ফুটবলের স্বার্থেই। এছাড়া সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক ও বাস্তবমুখী, আমি তাই করেছি।
একটু মনে করিয়ে দেই- শাহীন ও আর আমার বিষয়টা এক নয়।
আপনি একজন সাবেক তারকা ফুটবলার হয়ে কি মনে করেন কাবরেরার এখনও বাংলাদেশ দলের কোচ থাকা উচিত? যে দলে হামজা-শমিতের মতো খেলোয়াড় খেলছে।
কানন: সভাপতি আগেই বলেছেন ভালো কোচ খুঁজে পাচ্ছেন না। আমিও মনে করি, না পেলে তো কিছু করার নেই। কাবরেরাকে দিয়ে কাজ সারতে হবে। তবে হাইপ্রোফাইল কোচ কে না চায়। সব দলই চায় বিশ্বের সেরা কোচই তাদের ডাগআউটে দাঁড়াক।
আপনাদের কোচ তো আবার সবসময় বাংলাদেশে থাকেন না। শুধু অনুশীলনের আগে আসছেন। খেলা শেষে চলে যাচ্ছেন।
কানন: এটা কী বলবো। হয়তো এমনভাবে তার সঙ্গে কথা কিংবা চুক্তি হয়েছে। তবে আমি মনে করি একজন কোচের সবসময় মাঠে থেকে ঘরোয়া ফুটবল ফলো করা উচিত। দেশেই থাকা উচিত।