লটারি জয়ী অভিবাসী থেকে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের রেফারি, কে এই ইসমাইল 

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১টায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। মাঠের এই ম্যাচের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে রেফারির বাঁশি কার হাতে উঠছে, তা নিয়ে ছিল চরম কৌতূহল। অবশেষে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দ্বৈরথ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন মরক্কোন-আমেরিকান রেফারি ইসমাইল এলফাত। আর এর মাধ্যমেই প্রথম কোনও আমেরিকান রেফারি হিসেবে পুরুষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার অনন্য এক ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ৪৪ বছর বয়সী এই রেফারি। তার সঙ্গে সহকারী হিসেবে থাকবেন আরও দুই আমেরিকান সহকারী রেফারি কোরি পার্কার এবং কাইল আটকিন্স। ইতোমধ্যে গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস বনাম জাপানের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচসহ বেশ কিছু ম্যাচে সফলভাবে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক মরক্কোন বংশোদ্ভূত ৪৪ বছর বয়সী এই মার্কিন রেফারির উঠে আসার দারুণ এক জীবনগল্প ও তার ক্যারিয়ারের কিছু জানা-অজানা তথ্য— 

লটারি জিতে আমেরিকায় আগমন ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি 

১৯৮২ সালে মরক্কোতে জন্ম নেওয়া ইসমাইল এলফাত ২০০১ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভাগ্য নির্ধারণী ‘ডাইভারসিটি ভিসা লটারি’ (ডিভি লটারি) জিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এরপর তিনি টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৬ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি টেক্সাসের অস্টিনেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। 

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) পদার্পণ ও অনন্য ইতিহাস 

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ফুটবল লিগ ‘মেজর লিগ সকার’ (এমএলএস)-এ চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে কাজ শুরু করেন এলফাত। এর পরের বছরই (২০১২ সালে) রেফারি হিসেবে তার অভিষেক হয়।

ফুটবল ইতিহাসে প্রথম রেফারি হিসেবে প্রযুক্তির অনন্য এক মাইলফলকের সাক্ষী তিনি। ২০১৬ সালে ইউনাইটেড সকার লিগের (ইউএসএল) একটি ম্যাচে তিনিই প্রথম রেফারি হিসেবে ফুটবল বিশ্বে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ‘ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’ (ভিএআর) প্রযুক্তির ব্যবহার করেছিলেন। ঘরোয়া ফুটবলে দারুণ পারফর্ম করে ২০২০ ও ২০২২ সালে দুইবার তিনি ‘এমএলএস রেফারি অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। 

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পদচারণা ও চোট কাটিয়ে প্রত্যাবর্তন 

২০১৬ সালে ফিফা তালিকাভুক্ত রেফারি হন ইসমাইল এলফাত। এরপর তিনি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে সফলভাবে ম্যাচ পরিচালনা করেন। এছাড়া তিনি ২০২৬ কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের ফাইনাল পরিচালনার মতো বড় দায়িত্বও পান।

২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় ম্যাচ পরিচালনার সময় গুরুতর ইনজুরিতে পড়েছিলেন এলফাত। ফলে এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে তার মাঠে নামা নিয়ে একপ্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে কঠোর পুনর্বাসন ও ফিফা নির্ধারিত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পূর্ণ ফিটনেস প্রমাণ করে তিনি বিশ্বমঞ্চে স্বগৌরবে ফিরে এসেছেন। 

বিশ্বকাপে ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনা করে ফিফা প্রতিনিয়ত ধাপে ধাপে রেফারিদের তালিকা চূড়ান্ত করে। আর তাই ঘরের মাঠে এই বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলোতেও যে ৪৪ বছর বয়সী এলফাতকে প্রধান রেফারির ভূমিকায় দেখা যাবে, তা প্রায় নিশ্চিত।