বিশ্বকাপ শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা, ভিসা জটিলতা, রেফারিং এবং শৃঙ্খলাজনিত নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফাকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এবার সমালোচকদের সরাসরি জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এক খোলা চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, সমালোচকরা বিদ্বেষ ও মিথ্যা তথ্য ছড়াতে এত ব্যস্ত ছিলেন যে, বিশ্বকাপের প্রকৃত সাফল্যই তারা দেখতে পাননি।
সোমবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো বলেন, স্পেনের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ উপভোগ করা কোটি কোটি দর্শকের আনন্দ এবং একাত্মতার অনুভূতিকে সমালোচকরা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন।
তার ভাষায়, ‘আপনারা ঘৃণা আর সমালোচনায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে পুরো বিষয়টাই দেখতে পাননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা কলম আর কাগজের আড়ালে, কিংবা পর্দার পেছনে বসে ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন, তাদের বলতে চাই—আপনারা যখন বসে আছেন, তখন আমরা ফিফায় সামনের সারিতে থেকে কঠোর পরিশ্রম করছি, আয়োজন করছি এবং বিশ্বের সেরা আসর উপহার দিচ্ছি।’
তিনি দাবি করেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টে কোনো সহিংসতা হয়নি, কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত ছিল, ছিল শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।’
বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ফিফা সমালোচনার মুখে পড়ে। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের দলগুলোকে ঘিরে উদ্বেগ।
এছাড়া ফোলারিন বালোগুনের শৃঙ্খলাজনিত ইস্যুও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর তার ওপর স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও, পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় ফিফার সমালোচনা বাড়িয়ে দেয়।
তার ওপর আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচে রেফারিদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও সমর্থক ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়।
যদিও ইনফান্তিনো তার চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার নাম উল্লেখ করেননি, তবু দাবি করেন, টুর্নামেন্টে সমালোচিত অনেক রেফারিং ও শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্ত বিশ্বের বিভিন্ন বড় প্রতিযোগিতায় নিয়মিতই দেখা যায়, ‘ভুলবশত লাল বা হলুদ কার্ড দেখানো, কিংবা কিছু পরিস্থিতিতে পরে কোনো খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ না করার মতো সিদ্ধান্ত বিশ্বের বড় বড় লিগে খুবই স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়।’
শেষে সমালোচকদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘মজার বিষয় হলো, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিযোগিতায় এসব প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, তারাই আবার এগুলোর সমালোচনা করছে।’
/এফআইআর/