ভারতের বিপক্ষে সেরাটা দিতে চান অ্যাডাম আব্বাস

আজ এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইয়ে ভারত ম্যাচে ইতিবাচক কিছু করতে চায় বাংলাদেশ। শতভাগ উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় দলের তরুণ ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস।

সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই ফুটবলার জানান, দল এখন পুরোপুরি পরবর্তী ম্যাচকেন্দ্রিক প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে। 

আগের দুই ম্যাচের হতাশা ভুলে মাঠে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরাই এখন মূল লক্ষ্য। অ্যাডাম আব্বাস বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কোচের পরিকল্পনা মেনে চলা এবং দল হিসেবে সবাই একসঙ্গে লড়াই করা। আমরা জানি, আগের ম্যাচগুলোতে আমাদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। সেই দায় আমরা নিচ্ছি, তবে আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে। পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে এবং মাঠে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে, যাতে জয়ের সেরা সুযোগটি তৈরি করা যায়।’

উজবেকিস্তানে চলমান এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের পর সিরিয়ার সঙ্গে পরাজয়ের ব্যবধান ৩-০। তাতে কোয়ালিফাই করার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে লাল সবুজ জার্সিধারীদের।

দুই ম্যাচে হারের পর তাৎক্ষণিকভাবে হেড কোচ জেরার্ড জোন্সকে বরখাস্ত করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এখন আজ ভারত ম্যাচে ডাগ আউটে দাঁড়াবেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। 

টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোচ বদল, পরিকল্পনা ও দলের কৌশলগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে অ্যাডাম বলেন, ‘কোচ ভিন্ন হওয়ায় খেলার কৌশলেও কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন থাকবে। তবে আসল বিষয় হলো মাঠে সেই পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। আক্রমণ বাড়াতে হবে, রক্ষণ সামলাতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা ধরে রাখতে হবে।’

দলের পরিবর্তন কিংবা মাঠের বাইরের নানা আলোচনা ফুটবলারদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নে অ্যাডাম জানান, মাঠের বাইরের কোনও কিছু নিয়ে তারা ভাবছেন না। তিনি বলেন, ‘বাইরে বা পেছনে কী হচ্ছে তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমাদের একমাত্র ফোকাস মাঠের খেলা এবং পারফরম্যান্স। দল হিসেবে নিজেদের সেরাটা দিতে আমরা কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

চলতি বছর ভারতকে হারানোর স্মৃতি এবং দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল লড়াই বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে জানিয়ে প্রবাসী এই ফুটবলার বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের উত্তেজনা ও বড় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস আমরা সবাই জানি। যখনই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামি, দেশের জন্য সেরাটা দেওয়ার অনুপ্রেরণা আপনাতেই চলে আসে। আসল কথা হলো— ম্যাচের আবহে ভেসে না গিয়ে মাঠের খেলায় মনোযোগী হওয়া। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে আমরা সেরাটা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি।’