বাংলাদেশের ফুটবলে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চালুর স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ২০১৬ সালে ঘটা করে ঘোষণা এলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি সেই প্রতিযোগিতা। এক দশক পর আবারও বড় বাজেটের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আগামী বছর বাংলাদেশ সুপার লিগ চালুর প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাফুফে। শনিবার বাফুফে ভবনে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
২০১৬ সালে শিল্পপতি ও ক্রীড়া সংগঠক তরফদার রুহুল আমিনের মুখ্য ভূমিকার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সুপার লিগের (বিএসএল) ঘোষণা এসেছিল। টুর্নামেন্টের লোগোও উন্মোচন করা হয় তখন। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতাটি আর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের ফুটবলে এখনো অবকাঠামোসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তার মধ্যেই বাফুফের কাছে নতুন করে বাংলাদেশ সুপার লিগ (বিডিএসএল) চালুর প্রস্তাব এসেছে। তবে এবারের সমঝোতা স্মারকটি বাধ্যতামূলক নয়। প্রস্তাবদাতা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছে বাফুফে।
উদ্যোগটি বাফুফের কাছে তুলে ধরেন বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজির আলম। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ ও কার্যক্রমের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর নাজির জানান, আন্তর্জাতিক ফুটবল ও বিনিয়োগে অভিজ্ঞ প্রবাসীদের মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশে ফুটবলের বিপুল জনপ্রিয়তা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে নাজির বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পথে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনাও যথেষ্ট। বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা এবং দেশের ফুটবলের বাজার নিয়ে করা গবেষণাকে তিনি এই উদ্যোগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টে ১০টি দল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি দল হবে অঞ্চলভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি, আর চারটি থাকবে প্রচলিত ক্লাব কাঠামোর। দলগুলোকে নিয়ে ডাবল লিগ পদ্ধতিতে খেলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ফুটবল একাডেমি গড়ে তোলা ও অবকাঠামোর উন্নয়নও বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, প্রস্তাবদাতা প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। সেখানে দলের সংখ্যা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, পরিচালন কাঠামো এবং প্রতিযোগিতা পরিচালনার দায়িত্বে কারা থাকবেন এসব বিষয় স্পষ্ট করতে হবে।
ফাহাদ বলেন, ‘তারা সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার মতো জেলা বা বিভাগকে প্রতিনিধিত্ব করে পাঁচ থেকে ছয়টি আঞ্চলিক দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। আমাদের সভাপতি শর্ত দিয়েছেন, চলমান বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শীর্ষ চার বা পাঁচটি দলকেও এতে অংশ নিতে হবে।’