বাংলাদেশের জিমন্যাস্টিকস নিয়ে যারা একটু আধটু খোঁজ খবর রাখেন, তাদের তো কাজী সাইক সিজারকে মনে রাখার কথা। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম ও বেড়ে ওঠা জিমন্যাস্টকে। সেই সিজার এবার কোচিং প্যানেলের অন্যতম সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দলের হয়ে প্যারিস অলিম্পিকে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্র একটি ইভেন্টে ফাইনালে উঠে ব্রোঞ্জও জিতেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে অলিম্পিকে আসলেও বাংলাদেশকে ঠিকই হৃদয়ে ধারণ করে আছেন সিজার। স্বপ্ন দেখেন বাবা-মায়ের জন্মভূমি লাল সবুজ দেশের হয়ে কোচিংয়ে নেতৃত্ব দেবেন। খেলোয়াড়ি জীবনের পর হেড কোচ হয়ে বাংলাদেশকে একসময় অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করাবেন।
সিজারের বাংলাদেশের খেলোয়াড়ি জীবনের ইতিহাস একটু পুরোনো।
২০১১ সালে সেন্ট্রাল সাউথ এশিয়ান আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে বাংলাদেশের হয়ে সোনা জিতেছিলেন। আন্তর্জাতিক কোনও টুর্নামেন্টে জিমন্যাস্টিকসে সেটাই সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম সোনা ছিল।
এরপর ২০১২ সালে বাংলাদেশের হয়ে লন্ডন অলিম্পিকে অংশ নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য সেখানে ভালো করতে পারেননি। এনিয়ে আক্ষেপও আছে তার, ‘সেবার আমার ফাইনালে খেলা হয়নি। দুর্ভাগ্য ছিল। অলিম্পিকের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে চোটে পড়েছিলাম। লন্ডন অলিম্পিকে আমার ছয়টি ইভেন্টে খেলার কথা ছিল। তবে চোটের কারণে খেলতে পেরেছিলাম চারটি ইভেন্টে। সেবার ১২ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলাম। ফাইনালে খেলতে পারলে হয়তো পদক জেতার একটা সুযোগ হতে পারতো।’
চোটের কারণে আগেভাগেই খেলা ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোচিংয়ে মনোনিবেশ করেন সিজার, ২০১৫ সালের ২ জুলাই থেকে। এরপর আমেরিকার অলিম্পিক সেন্টারে হেড কোচ হয়ে যোগ দেন। দুই বছর ধরে ফ্লোরিডা ইভিও জিমন্যাস্টিক দলের কোচ হয়ে কাজ করার পর এবার আমেরিকার দলের হয়ে প্যারিসে এসেছেন। সহকারী হলেও এই দলে সিজারের ৫ জন জিমন্যাস্ট আছেন।
দ্বৈত নাগরিক সিজার একসময় স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের হয়ে অলিম্পিকে কোচিং করাবেন। প্যারিসে এসে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় সিজার বলেছেন, ‘সুযোগ পেলে বাংলাদেশের হয়ে কোচিং করানো সম্ভব। আমি লাল সবুজ দেশের হয়ে অলিম্পিকে খেলেছি। কোচ হয়ে একসময় আসতে পারলে ভালো লাগবে। তবে সেটা অনেক পরের বিষয়। আমি শুধু আমার স্বপ্নের কথা বললাম।’
বাংলাদেশের জিমন্যাস্টদের প্রশংসা করে সিজার বলেছেন, ‘এখানে ভালো জিমন্যাস্ট রয়েছে। আমার মনে হয়, দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা ও সুযোগ সুবিধা দেওয়া হলে ভালো কিছু হবে। ফেডারেশন এ নিয়ে নিশ্চয়ই কাজ করছে। এছাড়া কোচদের প্রশিক্ষণ, সেমিনার, জিমন্যাস্টদের বিভিন্ন কলাকৌশল শেখাতে বাংলাদেশে আসতে আমি রাজি আছি।’