অলিম্পিক গেমসে অংশ নেওয়া যে কোনও সাঁতারুর জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া সামিউল ইসলাম রাফি তাই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। আজ লা দে ফলস এরেনার সুইমিং পুলে সাঁতরিয়ে নিজের সেরা স্কোর করেছেন। তবে হিট থেকে উতরাতে পারেননি। আট জনের মধ্যে পঞ্চম হয়ে বাছাই পর্ব শেষ করেছেন। ফল যাই হোক না কেন, সামির আরও একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব সাঁতারে অন্যতম সেরা সাঁতারু আমেরিকার ক্যালেব ড্রেসেল। পুলে নামার আগে এক ফাঁকে স্বপ্নের সাঁতারুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো সামিউলের। শুধু কি দেখাই হয়েছে! ২৭ বছর বয়সী সাঁতারুর কাছ থেকে নানান টিপসও পেয়েছেন।
পুল থেকে উঠে এসে মিক্সড জোনে সামিউল বলেছেন, ‘আমার স্বপ্নের সাঁতারু উনি (ড্রেসেল)। অলিম্পিকে আসার আগেই চিন্তা করেছিলাম যদি দেখা হয়, তাহলে কথা বলবো। তার পারফরম্যান্সের ধরন থেকে অনেক কিছু জানতে চাইবো। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। খেলার ফাঁকে বাংলাদেশের সাঁতারু পরিচয় দিয়ে কথা বললাম। আমাকে উনি পরামর্শ দিলেন। কীভাবে আরও মান ভালো করা যায়, দিক নির্দেশনা দিলেন। বিশেষ করে জাম্পিং কীভাবে আরও দ্রুত করা যায় সেই পরামর্শ দিলেন।’
আমেরিকার সাঁতারু ড্রেসেল ২০১৬ সালের অলিম্পিকে ৪*১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও মিডলেতে সোনা জিতেছেন। ২০২১ টোকিওতে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ১০০ মিটার বাটারফ্লাই, ৪*১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ৪*১০০ মিটার মিডলেতে সোনা জেতেন। টোকিও অলিম্পিকে সেরা সাঁতারুর তকমাও লেগেছে। এবার ৪*১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলেও সোনা জিতে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।
সামিউল তাই বলেছেন, ‘এত বড় সাঁতারু উনি। তার মধ্যে কোনও অহংবোধ দেখিনি। টিপস দিয়ে শেষে বললেন, নিয়মিত অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই।’
তবে যতই টিপস দিক। বাংলাদেশের সাঁতারে দূরাবস্থা সহসাই কাটবে বলে মনে হচ্ছে না। প্যারিসের এই পুল দেখলে যে কারও চোখ ঝলসে যাবে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা ছিল দেখার মতো। কী ছিল না সেখানে। ডিজিটাল বোর্ড থেকে সবকিছু। অথচ বাংলাদেশের একমাত্র মিরপুর সুইমিং পুলে ডিজিটাল স্কোরবোর্ড বছরের পর বছর নষ্ট। খেলা হয়ে থাকে হ্যান্ড টাইমিংয়ে। এছাড়া শীতকালে গ্যাসের কারণে গরম পানিতে অনুশীলন হয় না। আরও রয়েছে নানান সমস্যা। সেখানে অলিম্পিকের জন্য ভালো একজন সাঁতারু বের হওয়া কঠিন।
তারপরও আমেরিকার সাঁতারুর কাছ থেকে টিপস পেয়ে সামিউল এখন নিজে নিজে যতটুকু সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।