যে কোনও গেমসে মূল আকর্ষণ শতমিটার স্প্রিন্টের লড়াই। যেই লড়াইটা উসাইন বোল্ট অনেক আগেই নিজের করে রেখেছেন। এবার প্যারিস অলিম্পিকে জ্যামাইকান স্প্রিন্টার নেই। আগেই অবসর জীবন যাপন করেছেন, তবে আছেন অন্যরা। আছেন বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইমরানুর রহমান।
তাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন অবশ্য পদক জয়ের নয়, হিট থেকে যতদূর এগিয়ে যাওয়া যায়। অন্তত পরের পর্বে বাংলাদেশের নাম যেন থাকে। ইমরান নিজেও জানেন নিজের দৌড়ের ক্ষমতা, কতটুক কী করতে পারবেন। তাই বড় স্বপ্ন না দেখিয়ে মাটিতেই পা রাখতে চাইছেন।
আজ অলিম্পিক ভিলেজে ইমরানুরের সন্ধানে গিয়ে দেখা গেলো তিনি নির্ভারই আছেন। মাত্র সেলুন থেকে ঘুরে এসেছেন। গোসলের পর ফুরফুরে মেজাজে পাওয়া গেলো। শুরুতে বাংলাদেশের টানা কয়েকবারের দ্রুততম মানব কালকের লড়াইয়ে নামার আগে নিজের প্রস্তুতি নিয়ে বলেছেন, ‘আমি তো লন্ডনের পর প্যারিসে এসে নিবিড় অনুশীলন করছি। আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত লড়াইয়ে নামার জন্য। এর জন্য মাসে এক থেকে দেড় কেজি ওজন কমাতে হয়েছে। আমি জানি অলিম্পিকের মাহাত্ম্য কেমন। এখানে পুরো বিশ্বের দৃষ্টি থাকে। আমি চাইবো নিজের সেরা টাইমিং করতে। কোচও (ইংল্যান্ড থেকে ব্যক্তিগত কোচ স্টিফেন) এখন এখানে আছেন। কালকে ইভেন্টের আগে আজকে দুপুর ৩টায় শেষ অনুশীলন সেশনে যাবো প্র্যাকটিস অ্যারেনায়।’
কোচের পরশে নিজেকে আরও শাণিত করার লক্ষ্য তার, ‘প্রস্তুতি এবং শেষ সময়ের চূড়ান্ত ছোঁয়াটুকুর জন্য কোচের পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা মেলে এতে।’
ইমরানুর দেশের হয়ে ২০২৩ সালে এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে সোনার পদক জিতেছেন। এছাড়া ইংল্যান্ডে এক প্রতিযোগিতায় দৌড় শেষ করেছিলেন ১০ দশমিক ১১ সেকেন্ড সময় নিয়ে। ঢাকায় জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ দশমিক ২৫ এবং এশিয়ান গেমসে ১০ দশমিক ৪২ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেছিলেন।
ইমরানুর নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার করে জানালেন, ‘খুবই রোমাঞ্চিত আমি। নামতে মুখিয়ে আছি। প্রথম রাউন্ড কালকে সাড়ে ১০টায়, চেষ্টা করবো পরের রাউন্ডে পা রাখার এবং সেখান থেকে এগিয়ে যেতে।’
এরপর আরও আশাবাদী কথা ৩১ বছর বয়সী অ্যাথলেটের কণ্ঠে, ‘এই প্রতিযোগিতায় যত দূর সম্ভব যেতে চাই আমি। সেটাই সবার লক্ষ্য। প্রতিটি রাউন্ড ধরে এগোতে চাই। একটিতে সফল হলে পরেরটিতে তাকাতে চাই।’
প্যারিস অলিম্পিক ভিলেজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বললেন, ‘অলিম্পিক ভিলেজের আবহ দারুণ। অনেক দেশ, বিভিন্ন সংস্কৃতির অ্যাথলেটরা আছে, সবাই পরস্পরের সঙ্গে মিশছে।'
স্তাদে দা ফ্রান্সে ইমরানুর কতটুকু কী করতে পারবেন, তা কালই পরিষ্কার হবে।