সেদিন গেমস ভিলেজে সাঁতারু সোনিয়া আক্তারের মলিন মুখটা বেশ মনে পড়ছে। পরের দিনই ছিল তার ইভেন্ট। তাই স্বাভাবিকভাবে জানতে চাওয়া ছিল কেমন স্কোর করতে চান। সোনিয়া সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছিলেন আহামরি কিছু করা কঠিন। আদতে তাই হয়েছে। শুধু সোনিয়া নন, বাংলাদেশের কেউ প্যারিস অলিম্পিকে সেভাবে ভালো করতে পারেননি। শুধু সাঁতারু সামিউল ইসলাম নিজের স্কোর সামান্য কমাতে পেরেছিলেন। সবমিলিয়ে একরাশ হতাশা নিয়ে আজ বাংলাদেশের বাকি ক্রীড়াবিদরা ঢাকার উদ্দেশে প্যারিস ছেড়েছেন।
বাংলাদেশের এমন অবস্থা হয়েছে, অলিম্পিক গেমসের মতো আসরে শুধু অংশগ্রহণই বড় কথা হয়ে আছে। আধুনিক অলিম্পিকের জনক পিয়েরে দা কুবের্তের সেই বাণী অনুসরণ করে আসছে।
১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশের ক্রীড়াবিদরা বরাবরই শূন্য হাতে ফিরছেন।
সোনিয়া তখন আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘সবাই শুধু ফল চায়। কিন্তু একবারও ভাবে না মাত্র এক মাসের প্রস্তুতি নিয়ে অলিম্পিকের মতো আসরে ভালো করা বেশ কঠিন। শুধু তাই নয়। আধুনিক অনেক কিছুই তো নেই আমাদের। এখানে এসে অন্য সবাইকে দেখে নিজের প্রতি খারাপই লাগে।’
এত গেল সাঁতার। শুটিং, আর্চারি কিংবা অ্যাথলেটিকস সাঁতারের চেয়ে ভালো সুবিধা পেয়েও খারাপ ফল করেছে।
সারা বছর বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলন করে শুটিং আশানুরূপ কিছুই করতে পারেনি। ফেডারেশনের শুধুই বাগাড়ম্বর।
আর্চারিতে সাগর ইসলাম আসল জায়গায় খারাপ করেছেন। জার্মানির কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক আশার বাণী শোনালেও তীর ধনুকের লড়াইয়ে পিছিয়ে ছিলেন। গতবার টোকিও অলিম্পিকে যাও বা রোমান সানা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিলেন। এবার প্যারিসে সাগরকে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
সবশেষ অ্যাথলেটিকস তো চূড়ান্ত হতাশ করেছে। চোট লুকিয়ে লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইমরানুর রহমান অলিম্পিকে দৌড়ে খারাপ ফল করেছেন। ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টুর দিকে অভিযোগের তীর। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অলিম্পিকের মতো আসরে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে।
এসব নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বিষন্ন কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমরা যাদের সারাবছর আইওসি বৃত্তি দিয়েছি তাদের কেউ অলিম্পিকে জায়গা পায়নি। এই দায় কার! ফেডারেশন কি মনিটরিং করেছে তাহলে? আসলে এভাবে হবে না। দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। সবার চেষ্টা না থাকলে অলিম্পিকের মতো জায়গায় কিছু করা কঠিন।’
আসলেই কঠিন। তবে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রথম অলিম্পিকে অংশ নিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত শুধু আসা যাওয়ার মধ্যে আছে। কর্মকর্তারা কখন বিদেশ ট্যুর করবেন এনিয়ে থাকেন ব্যস্ত। ক্রীড়াবিদদের দিকে সেভাবে তাকান না। তানাহলে সংগঠক না হয়েও সাঁতারে সাইফ মোল্লা কিংবা আব্দুর রকিব মন্টুদের লক্ষ্য থাকে একের পর এক বিদেশ ট্যুরে অংশগ্রহণ। আর এদিকে বাংলাদেশকে অলিম্পিকের মতো আসরে পেতে হয় লজ্জা। সুদৃষ্টির অভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ফল আসছে না। এর থেকে যেন উত্তরণের পথ নেই।