বাবা সিরাজ উদ্দীন একজন বক্সার। তার অনুপ্রেরণায় বক্সার হওয়ার পথচলা শুরু হয় মাত্র দুই বছর বয়সে। ২১ বছর বয়সী হামজা উদ্দীন এবার স্বপ্ন দেখছেন প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।
হামজা এই বছরের শুরুতে এসেক্স-ভিত্তিক ম্যাচরুম দল এডি হার্নের ব্রেন্টউডের সঙ্গে স্বাক্ষর করেন।
হামজা জানান, ব্রিটিশ দক্ষিণ এশিয়ার চারবারের বিশ্ব কিকবক্সিং চ্যাম্পিয়ন কাশ গিল তার বাবাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা তার সময়ে একজন বক্সার ছিলেন, তিনি কেবল শুরু করেছিলেন। কিন্তু ইনজুরির কারণে বেশিদূর যেতে পারেননি। আমার দ্বিতীয় জন্মদিনের একটি ভিডিও রয়েছে; আমি সবেমাত্র হাঁটতে পারি। কিন্তু আমি ব্যাগ ঘুষি দিচ্ছি। আমার বয়স যখন সাত বা আট, আমার বাবা তখন থেকে আমাকে বক্সিং শেখাতেন। আমার প্রথম লড়াই ছিল দশ বছর বয়সে এবং তখনই আমরা এটাকে গুরুত্ব দেই। বিশ্বাস ছিল, আমি কিছু করতে পারি।’
ব্যবসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হামজা বলেছেন, ‘প্রতিদিন আমি বক্সিং করছি, আমি আমার জনগণের জন্য নতুন কিছু অর্জন করছি। কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে প্রথম হওয়ার একটি বিশাল স্বপ্ন আছে।’
ম্যাচরুম প্রোফাইল অনুসারে হামজার পেশাদার রেকর্ড- একটি নকআউটসহ দুটির মধ্যে দুটি জয়।
হামজা বলেন, ‘আমির খান, যিনি ব্রিটিশ-পাকিস্তানি। বেশিরভাগ দক্ষিণ এশীয় বক্সারের জন্য অনুপ্রেরণা ছিলেন। কিন্তু একজন রোল মডেল এবং একজন বাংলাদেশি হওয়ায় সে জায়গায় শূন্যতা রয়ে গেছে। সেজন্যই আমার স্বপ্নটা এত শক্তিশালী, কারণ একদিন আমি যদি এটা করতে পারি তাহলে হয়তো একদিন ব্রিটিশ বাংলাদেশি ছোট বাচ্চারা বলতে পারবে, হামজা উদ্দীন এটা করেছে, আমরাও এটা করতে পারি।’
বাংলাদেশি কমিউনিটির সমর্থন পাচ্ছেন তিনি, ‘আমি গর্বিত যে বাংলাদেশি কমিউনিটি আমার পেছনে রয়েছে। এটি আমাকে উৎসাহিত করে। তবে চাপও অনুভব করি, কারণ তারা আমাকে নিয়ে আশাবাদী, আমি তাদের হতাশ করতে পারি না।’