ক্লডের শত শত ব্যক্তিগত চ্যাট প্রকাশ্যে, নড়েচড়ে বসলো অ্যানথ্রপিক

অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লডের সঙ্গে শত শত কথোপকথনের তথ্য গুগলসহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে ফাঁস হয়ে যায়। গত ২৫ জুলাই এই ঘটনায় ব্যবহারকারীদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র, ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য, জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি, বাড়ির ঠিকানা, ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের তথ্য, ব্যবসায়িক নথি, এমনকি শিশুদের যোগাযোগের তথ্যও প্রকাশ্যে চলে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন একজন ব্যবহারকারী গুগলে site:claude.ai/share সার্চ অপারেটর চালিয়ে দেখতে পান যে ক্লডের শত শত শেয়ার করা চ্যাটের লিংক সাধারণ ওয়েবপেজের মতোই সার্চ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে। ক্লডে কোনো কথোপকথন শেয়ার করলে সেটির একটি পাবলিক ওয়েবপেজ তৈরি হয়, যা নির্দিষ্ট লিংক জানা থাকলে যে কেউ দেখতে পারেন। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন এসব পাবলিক পৃষ্ঠাকে সার্চ ইঞ্জিনও সাধারণ ওয়েবপেজ হিসেবে শনাক্ত করে অনুসন্ধান ফলাফলে দেখাতে শুরু করে। ফলে পরবর্তীতে সাধারণ ওয়েব সার্চের মাধ্যমেই ওই চ্যাটগুলোর লিংক খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো সাইবার হামলা বা হ্যাকিংয়ের ঘটনা নয়। ব্যবহারকারীদের তৈরি করা পাবলিক শেয়ার লিংক সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হওয়ার ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রকাশ্যে আসা চ্যাটগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির মেডিক্যাল রিপোর্ট, আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত তথ্য, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক তথ্য, রাজনৈতিক মতামত, আইনগত পরামর্শ, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, ঠিকানাসহ অনেক মানুষের ওই চ্যাটবটের সঙ্গে প্রম্পটিং এর মাধ্যমে কথোপকথনের সময় শেয়ার করা সব ফাইল বা তথ্য ছিল। চ্যাটবটে লেখা প্রত্যেকটি প্রম্পট এবং তার সঙ্গে যুক্ত করা যেকোনো ফাইল বা তথ্য, এআই চ্যাটবট সংরক্ষণ করে রাখে সেগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে আউটপুট দেয়ার জন্য। সংরক্ষিত তথ্যগুলোই  এই ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফাঁস হয়ে যায়।
 
ঘটনার পর অ্যানথ্রপিক জানায়, ক্লডের সাধারণ কথোপকথন ডিফল্টভাবে ব্যক্তিগত থাকে এবং প্রতিষ্ঠানটি কোনো সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ব্যবহারকারীদের চ্যাটের তালিকা বা ডিরেক্টরি সরবরাহ করে না। অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারী ‘শেয়ার’ ফিচার ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট চ্যাটের জন্য একটি পাবলিক ওয়েব লিংক তৈরি হয়, যা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়। 

তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, এসব শেয়ার করা পেইজ যাতে সার্চ ইঞ্জিনের অনুসন্ধান ফলাফলে না আসে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা-ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল না। ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সব শেয়ার করা পেইজে  ‘নন-ইনডেক্স’ নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে এবং গুগলসহ সংশ্লিষ্ট সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে সেগুলো অনুসন্ধান ফলাফল থেকে অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সেটিংস → প্রাইভেসি → শেয়ার্ড চ্যাটস অপশনে গিয়ে পূর্বে তৈরি করা শেয়ার লিংকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে সেগুলো মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।