অক্টোবরের শেষ দিনে ধাক্কা: ইন্টেল ও রেডিটের শেয়ারে বড় পতন

নতুন একটি মাস শুরুর অপেক্ষায় থাকা অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে সোমবার স্বস্তির হতে পারে। কারণ অক্টোবরের শেষ কার্যদিবস ছিল বেশ কঠিন। এ বছরের প্রযুক্তি শেয়ারের জোয়ারের নতুন পরীক্ষায় শুক্রবার নাসডাক কম্পোজিট সূচক জুনের পর সবচেয়ে বড় পতনের মুখে পড়েছে।

চিপ নির্মাতা ইন্টেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান রেডিটের শেয়ারের দাম ২৯ শতাংশ কমেছে। এআই খাতে মূলধন ব্যয়ের জোয়ারে সবচেয়ে বেশি লাভবান চিপ নির্মাতাদের একটি স্যান্ডিস্কের শেয়ার কমেছে ১৩ শতাংশ। এআই অবকাঠামো নির্মাণের কেন্দ্রে থাকা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সপ্তাহটি ছিল ধাক্কার। এর নেতৃত্বে ছিল মাইক্রোসফট, মেটা প্ল্যাটফর্মস, অ্যামাজন ও গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। সপ্তাহের আগের দিকে বড় পতনের পর শুক্রবার এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম আরও ১ থেকে ২ শতাংশ কমে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স জানিয়েছে, এস অ্যান্ড পি ৫০০-এর বর্তমান অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর গত ১২ মাসের মোট মূলধন ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এসেছে এই চার হাইপারস্কেলার থেকে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ অংশ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা অস্বস্তিতে আছেন।

ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের বাজার অর্থনীতিবিদ জন হিগিন্স বলেন, হাইপারস্কেলারদের সম্মিলিত মূলধন ব্যয়ের জোয়ার এখন আংশিকভাবে বাইরের অর্থায়নের ওপর নির্ভর করছে। তাই তারা সম্মিলিতভাবে কত অর্থ বিনিয়োগ করছে এবং কীভাবে করছে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন।

বড় অ-আর্থিক কোম্পানির শেয়ারের সূচক নাসডাক ১০০ পতনের পর কিছুটা কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে সূচকটি সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১০ শতাংশ পতন, অর্থাৎ করেকশনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। নাসডাক কম্পোজিট সর্বোচ্চ ক্লোজিং থেকে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ নিচে নেমেছে। ২০২৫ সালের মার্চের পর সবচেয়ে খারাপ মাসে এ বছরের এআই-নির্ভর লাভের একটি বড় অংশ মুছে গেছে।

অ্যানেক্স ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনৈতিক কৌশলবিদ ব্রায়ান জ্যাকবসেন বলেন, বিনিয়োগ থেকে কারা আয় করতে পারবে আর কারা পারবে না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ সবাই একসঙ্গে রায় দিচ্ছেন।

প্রযুক্তি শেয়ারের বাইরেও ক্ষতি ছড়িয়েছে। এসব শেয়ার সম্প্রতি পর্যন্ত ইতিবাচক মনোভাবের ওপর ভর করে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ট্রেজারির দাম বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে ব্যাপক সরে আসার চিত্র দেখা গেছে। রুপার দাম ৬ শতাংশ কমে বছরে ৩১ শতাংশ নিচে নেমেছে। সোনার দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২০২৬ সালে ১০ শতাংশ কমেছে।

তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, প্রথম দেখায় সাম্প্রতিক শেয়ার বিক্রির বড় অংশই যা ওঠে, তা নামে ধরনের ঘটনা। ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের বৈশ্বিক ইকুইটি বিক্রয় ও ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাক মানুয়েলিয়ান বলেন, আমি মনে করি না, এটি বিশেষ উদ্বেগজনক কোনও লিভারেজ সমস্যা। পুরো খাতেই এত বিশাল উত্থান হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স