হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা এড়ানোর ৫ উপায়

অনলাইন জগতে প্রতারণার কৌশল প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে। কখনও কোনও সরকারি কর্মকর্তা, কখনও নামী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবার কখনও বা কাছের কোনও মানুষের পরিচয় দিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে সাইবার অপরাধীরা। হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) বা জরুরি অর্থসহায়তার নামে মোটা অঙ্কের টাকা। সাধারণত মানুষের মনে আতঙ্ক বা তাড়াহুড়ো তৈরি করে এই ধরনের প্রতারণাগুলো করা হয়ে থাকে।

ডিজিটাল জালিয়াতির এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মাথায় রেখে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে প্ল্যাটফর্মটি নতুন ৫টি অ্যান্টি-স্ক্যাম (প্রতারণাবিরোধী) ফিচার নিয়ে এসেছে।

হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং স্ক্যামারদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে যে বিষয়গুলো ও নতুন ফিচারগুলো দারুণ ভূমিকা রাখবে—

১. অচেনা নম্বরের কল ‘সাইলেন্স’ করা

অপরিচিত নম্বর থেকে আসা স্প্যাম এবং প্রতারণামূলক কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিল্টার বা স্ক্রিন করার জন্য রয়েছে ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ ফিচার। এই ফিচার চালু থাকলে কন্টাক্ট লিস্টে সেভ না থাকা কোনো নম্বর থেকে কল এলে রিংটোন বাজবে না। তবে কলগুলো অ্যাপের ‘কলস’ ট্যাব এবং নোটিফিকেশনে দেখা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীরা আকস্মিক বিরক্তিকর পরিস্থিতি বা ফাঁদ থেকে রক্ষা পাবেন।

২. কনটেক্সট কার্ড

কোনও অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ এলে বা গ্রুপে যুক্ত করা হলে চ্যাটের ভেতরেই বাড়তি তথ্য দেখাবে এই ‘কনটেক্সট কার্ড’। যেমন— নম্বরটি কন্টাক্ট লিস্টে সেভ করা আছে কি না, কোনও মিউচুয়াল বা সাধারণ গ্রুপ আছে কি না, অ্যাকাউন্টটি একদম নতুন তৈরি করা কি না, কিংবা এটি অন্য কোনও দেশের নম্বর কি না। এই তথ্যগুলো দেখে ব্যবহারকারী সহজেই বুঝতে পারবেন চ্যাটটি নিরাপদ কি না।

৩. স্ক্রিনশেয়ার সতর্কতা

ভিডিও কলে কথা বলার সময় অনেক স্ক্যামার ব্যবহারকারীকে চাপ দিয়ে ফোনের স্ক্রিন শেয়ার করতে বলে, যাতে পিন, পাসওয়ার্ড বা গোপন তথ্য চুরি করা যায়। এখন থেকে কোনও অপরিচিত নম্বরের সাথে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় স্ক্রিন শেয়ার করতে গেলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে একটি সতর্কবার্তা দেখাবে। এর ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারী আগেভাগেই সচেতন হতে পারবেন।

৪. ডিভাইস লিংকিং অ্যালার্ট

প্রতারকরা অনেক সময় কৌশলে ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি অন্য কোনও ডিভাইসে লিঙ্ক বা যুক্ত করে নেয়। এই জালিয়াতি রুখতে যুক্ত হয়েছে ডিভাইস লিংকিং অ্যালার্ট। কোনও সন্দেহজনক ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্ট লিঙ্কের অনুরোধ এলে এটি ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে, অনুরোধটি কোথা থেকে আসছে তা দেখাবে এবং চূড়ান্তভাবে লিঙ্ক করার আগে ব্যবহারকারীকে সাবধান করবে।

৫. দ্বি-স্তর বিশিষ্ট যাচাইকরণ বা টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর একটি ফিচার হলো টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন। এটি চালু থাকলে অ্যাকাউন্ট রিসেট বা অন্য কোনও ডিভাইসে নতুন করে ভেরিফাই করার সময় একটি নিজস্ব ৬ ডিজিটের পিন নম্বরের প্রয়োজন হয়। ফলে অন্য কেউ চাইলেই সহজে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ বা টেকওভার করতে পারে না।

সচেতনতামূলক বার্তা এবং ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত এই ফিচারগুলোর সমন্বয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিনিয়ত সাইবার অপরাধের ধরন যেভাবে জটিল হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় এবং তাদের নিজেদের অ্যাকাউন্টের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।