গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার হিসেবে গরমিল ধরা পড়েছে। বেতন ভাতা, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ও সেবাখাতের বিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক বিধিবিধান সঠিকভাবে অনুসরণ না হওয়ায় এ গড়মিল হয়েছে বলে সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উঠে এসেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ৫ বছরের অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি দ্রুত ওইসব অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির তাগিদ দিয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: ‘শেষ দেখা’র পর বেরিয়ে গেলেন নিজামীর স্বজনরা
জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব নিয়াজ রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়,ওই সময়ে অনিষ্পন্ন মোট অডিট আপত্তি রয়েছে ১ হাজার ২৯৪টি। এতে জড়িত মোট অর্থের পরিমাণ ১১ হাজার ৯১৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। যার অধিকাংশ আপত্তি হচ্ছে বেতন ভাতা সংক্রান্ত।
এছাড়া অনিষ্পন্ন আপত্তির মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় যেমন- রপ্তানিকৃত পণ্যের মূল্য প্রত্যাবাসন, আমদানির বিপরীতে বিল অব অ্যান্ট্রি বকেয়া থাকা এবং ইনডেন্টিং কমিশনের অর্থ প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত আপত্তিগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এসব আপত্তির অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বিবরণীতে প্রতিফলিত হয়নি।
আরও পড়তে পারেন: এবার ‘ভি’ চিহ্ন দেখালেন নিজামীর স্বজনরা
বৈঠকের পর কমিটির সদস্য আব্দুর রউফ সাংবাদিকদের বলেন,কমিটি যত দ্রুত সম্ভব অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করতে বলেছে। খুব শিগগিরই মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়,বাংলাদেশ ব্যাংক আর আপত্তির সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে হল-মার্ক ও বেসিক ব্যাংক কেলেংকারি নিয়েও অগ্রগতি জানতে চাওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে যথাযথ তদারকি করছে না বলে মনে করছে কমিটি।
শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আব্দুল কুদ্দুস,মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া,মো. হাবিবর রহমান,মো. আব্দুল ওদুদ,আব্দুর রউফ এবং নাভানা আক্তার অংশ নেন।
ইএইচএস/ এমএসএম/








