ফিলিপাইন রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিলেও বিষয়টিকে আমলে নিচ্ছে না চুরির টাকা ফেরতের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স। রবিবার অনুষ্ঠিত টাস্কর্ফোসের বৈঠকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ চুরির সঙ্গে দেশি-বিদেশি অনেক চক্র জড়িত। ফিলিপাইনের আদালত সে দেশের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংককে দায়ী করে জরিমানাও করেছেন। এই ঘটনায় বেশ কিছু লোক পলাতক রয়েছেন। অনেকে নজরদারিতেও রয়েছেন। চুরির বাকি টাকা উদ্ধারে টাস্কফোর্স প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। বৈঠক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন টাস্কফোর্স কমিটির আহ্বায়ক অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর বরাত দিয়ে ফিলিপাইন্সের রিজাল ব্যাংকের একজন আইনজীবী অর্থ চুরির ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেন।
রবিবার অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্স বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। প্রকৃত অপরাধীরা যেন শাস্তি পায়, সে বিষয়ে টাস্কফোর্স উদ্যোগ নেবে।
বৈঠকে রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরতে অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ।
এ প্রসঙ্গে দেবপ্রসাদ দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেকোনও ধরনের অর্থ দেশের বাইরে চলে গেলে, তা আনতে সময় লাগে। এখানেও হয়ত সময় লাগবে। কিন্তু টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।’
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন নিজেদের সম্প্রতি দায় অস্বীকার করলেও বৈঠকে টাস্কফোর্সের সদস্যরা আশাবাদী, চুরির বাকি সব টাকা ফেরত পাবে বাংলাদেশ।
টাস্কফোর্সের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠকে চুরির টাকা ফেরতে এ পর্যন্ত কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, টাকা ফেরত পেতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে—তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ফিলিপাইন সফর করা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের টিমেরও প্রশংসা করা হয়।’
জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির বাকি অর্থ ফেরত পেতে এখন ফিলিপাইনের আদালতের ওপর নির্ভর করতে হবে। সে দেশের আদালতে বিষয়টি যাওয়ার কারণে অর্থ ফেরতে যথেষ্ট সময়ও লাগতে পারে।
এ প্রসঙ্গে টাস্কর্ফোসের ওই কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘যেকোনও ধরনের অর্থ দেশের বাইরে চলে গেলে সেটি আনতে সময় লাগবেই। বাকি টাকা ফেরতের অগ্রগতি নিয়ে আগামী মাসের শেষের দিকে আরেকটি বৈঠক করবে টাস্কফোর্স।’
প্রসঙ্গত, গত ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে নেয় হ্যাকাররা। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কা ও ৮১ মিলিয়ন ডলার চলে যায় ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে।
উল্লেখ্য, রিজার্ভ চুরির ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত দেড় কোটি ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া এই ঘটনায় রিজাল ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার জরিমানা করে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জরিমানা পরিশোধ করলেও বাংলাদেশকে বাকি অর্থ দিতে নারাজ ব্যাংকটি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকে বিদেশি চোর!
/এমএনএইচ/








