চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা পেতে মানব সম্পদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:১০আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:১৬

আলোচনা সভায় কথা বলছেন আলোচকরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা ভোগ করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানব সম্পদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করের ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান। ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব: বাংলাদেশের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) ডিসিসিআইতে ঢাকা চেম্বার ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলুশন (বিডিফোরআইআর) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক। 

ডিসিসিআই’র সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, পণ্য উৎপাদন ও বিপণন সর্বোপরি সামগ্রিক পেক্ষাপটে অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে। এই বিপ্লবের সুবিধা আদয়ের জন্য বাংলাদেশকে এখনই প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সময়কালে রোবটিকস, ক্লাউট টেকনোলোজি, ব্লকচেইন, থ্রিডি প্রিন্টিং, ন্যানোটেকলোজি এবং বায়োটেকনোলোজি প্রভৃতি বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্ব পাবে। এসব প্রযুক্তিসমূহের ঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি এই বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রণোদনার জন্য সরকারের কাছে আহবান জানান।  

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেছে। তারা ইতোমধ্যে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারের অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকোচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তেমনি কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের সুযোগও সৃষ্টি হবে। এই কারণে আমাদের এখনই যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। সামনের দিনগুলোতে যারা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারবে, তারাই পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ফোরথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলুশন’র (বিডিফোরআইআর) সহসভাপতি সৈয়দ তামজিদ উর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চৌধুরী বলেন,  ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে একদিকে যেমন নতুন কাজের দিগন্ত উন্মোচিত হবে একইসঙ্গে কর্মচ্যুতিরও আশঙ্কা থাকবে। এজন্য আগামী ২০ বছরের মধ্যে আমাদের দেশের কর্মক্ষম প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে পুনঃপ্রশিক্ষণ দিতে হবে। আরও ২ কোটি মানুষকে নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে হবে।’ এজন্য তিনি বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং নতুন উদ্ভাবিত তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

/জিএম/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম