‘১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর দখলে জিডিপির ৩৮ শতাংশ সম্পদ’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:৩৮ আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:৪৮

‘১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর দখলে জিডিপির ৩৮ শতাংশ সম্পদ’

মাত্র ২৫৫ জন ব্যক্তির কাছে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সম্পদ আটকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। তিনি আরও বলেছেন, ‘দেশের ধনাঢ্য ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর দখলে ২০১০ সালে ছিল মোট জিডিপি’র ৩৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে বেড়ে ৩৮ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আরও দুঃখজনক হলো, জনগণের সবচেয়ে ধনাঢ্য ৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর দখলে ২০১৬ সালে চলে গেছে মোট জিডিপি’র ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।’  

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আয়োজনে ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান আয়-বৈষম্য: সমাধান কোন পথে?’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক মইনুল ইসলাম এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বছরে দেশ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

অধ্যাপক মইনুল ইসলাম তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, গত ৫ বছরে ধনকুবেরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গণচীনে ও হংকংয়ে, কিন্তু ধনকুবেরের সংখ্যার বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বাংলাদেশে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ধনকুবেরের সংখ্যা ছিল ২৫৫ জন। ২০১৬ সালের হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে মোতাবেক বাংলাদেশের পা’মা বা পালমা অনুপাত নির্ণীত হয়েছে ২ দশমিক ৯৩, যার ফলে বলা যায় বাংলাদেশ এখন বিপজ্জনক আয়-বৈষম্য’ স্তরের খুবই কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

প্রবন্ধে বলা হয়, পরিমাপকের গতি-প্রকৃতির মাধ্যমে ২০১০ ও ২০১৬ সালের মধ্যে আয়-বৈষম্য বিপজ্জনকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিপক্ষে এবং ৫-১০ শতাংশ ধনাঢ্য গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে চলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি ফুটে উঠেছে।

সভায় ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘ধনাঢ্য ব্যক্তিদের আয় বাড়ার হার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। বছরে দেশ থেকে পাচার হচ্ছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন গার্মেন্টস মালিকরা। কিন্তু এই খাতের ৩৫ লাখ শ্রমিক আগের মতোই দরিদ্র থেকে গেছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোমের মালিক এবং টরেন্টোর বেগম পাড়ার বাড়ির মালিকদের মধ্যেও দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল আমলা, সামরিক অফিসার, অর্থনীতিবিদদের পরিবারের পাশাপাশি গার্মেন্ট মালিকদের পরিবারই বেশি অনুপাতে চিহ্নিত করা যাচ্ছে।’

ড. মইনুল বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে ১১ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেখানে পিতা-মাতার আর্থিক সামর্থের ওপর সন্তানের স্কুলের এবং শিক্ষার মান নির্ভর করে। যা একটি দেশের জাতিগত উন্নয়নে মোটেও কাম্য নয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক উজ জামান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কেএএস মুর্শিদ, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ ও সহসভাপতি এজেডএম সালেহ আলোচনায় অংশ নেন।

 

 

/জিএম/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ডেঙ্গুকে প্রতিরোধে নিজেই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
ডেঙ্গুকে প্রতিরোধে নিজেই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
ভোলায় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাত, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
ভোলায় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাত, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
শাহজালালে এক সপ্তাহে ১১ অভিযানে যা যা জব্দ করলো কাস্টমস
শাহজালালে এক সপ্তাহে ১১ অভিযানে যা যা জব্দ করলো কাস্টমস
আর্জেন্টাইন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কেমন আছেন
আর্জেন্টাইন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কেমন আছেন
সর্বাধিক পঠিত
অপুর সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংস, কে এই আদনান
অপুর সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংস, কে এই আদনান
এক জেলাতেই ৭১০ কোটি টাকার সুপারি, চাষে লাভবান কৃষক
এক জেলাতেই ৭১০ কোটি টাকার সুপারি, চাষে লাভবান কৃষক
আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী
আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত যেভাবে
কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত যেভাবে
এখন থেকে লাগেজ লাইভ দেখতে পারবেন শাহজালালের যাত্রীরা
এখন থেকে লাগেজ লাইভ দেখতে পারবেন শাহজালালের যাত্রীরা