প্যাকেজ ঋণের টাকায় পরিশোধ হবে শুধু বেতন-ভাতা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০১ এপ্রিল ২০২০, ১৭:১৮আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮:০২




পোশাক কারখানায় কাজে ব্যস্ত কর্মীরা (ছবি সংগৃহীত) করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত রফতানি খাতের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে নেওয়া ঋণে শুধু শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে, অন্য কোনও খাতে এ ঋণের টাকা ব্যয় করা যাবে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য অন্তত ৮০ শতাংশ রফতানি হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরাই এ তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবেন। ১৮ কিস্তিতে তহবিলের অর্থ শোধ করতে হবে। গ্রেস পিরিয়ড হবে ৬ মাস। তহবিল প্যাকেজের অর্থ মালিক পক্ষ পাবেন ঋণ হিসেবে। এ জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের দুই শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মালিক ঋণের এই অর্থ পরিশোধের জন্য দুই বছর সময় পাবেন।

এসব গাইডলাইন দিয়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো গাইডলাইনে আরও বলা হয়, সংকটকাল তথা এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাসে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা এ তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান রফতানির সঙ্গে যুক্ত নয়, তারা এ তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য যোগ্য হবে না। তহবিলের এ টাকা চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেট থেকে ব্যয় করা হবে। এ জন্য বাজেটে পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থ বিতরণ করা হবে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিমালা চূড়ান্ত করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে গত সোমবার অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত তহবিল গঠনের সবকিছু চূড়ান্ত করলেও সোমবারই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশেই প্যাকেজটি আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককেই নীতিমালা করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশসহ নীতিমালা চূড়ান্ত করার পর অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যমতে তৈরি পোশাক খাতের এক হাজার ৪৮টি শিল্পকারখানার ২৪ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা বা ২৮৭ কোটি মার্কিন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। এসব অর্ডারের বিপরীতে প্রায় ৯১ কোটি পিস পোশাক তৈরি হতো।
এ জন্য এসব কারখানার বিপরীতে ২০ লাখ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প, ফুটওয়্যার, বাইসাইকেলসহ অনেক রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত ৮ মার্চ থেকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ার প্রভাবে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

/এসআই/টিটি/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম