X
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২
২০ আষাঢ় ১৪২৯

সাকিবের দুই স্বর্ণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট বিএসইসি

আপডেট : ২৫ মে ২০২২, ২৩:১১

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন স্বর্ণের দুটি প্রতিষ্ঠান যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট বিএসইসি। বুধবার (২৫ মে)  প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে কমিশন থেকে পাঠানো চিঠিতে সন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ মে ‘রিলায়েবল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’ও ‘বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’ নামের প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে বিএসইসি থেকে আলাদা  চিঠি পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি গত ২২ মে কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জবাব দেয়। ওই চিঠির জবাব ‘সন্তোষজনক’ বলে মন্তব্য করেছে বিএসইসি। তাদের স্বর্ণের ব্যবসা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে চিঠিতে বিভ্রান্তি দূর করতে প্রতিষ্ঠান দুটির নামের সঙ্গে’ ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। এ বিষয়ে বিএসইসি চিঠিতে উল্লেখ করেছে, কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে একটি অনুমোদিত কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কমোডিটির ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ (স্পট ব্যতীত) করতে হবে। তাই এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে আপনাদের কোম্পানিগুলোর শিরোনাম থেকে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ শব্দটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো।

গত ২২ মে বিএসইসিতে পাঠানো চিঠিতে প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেক রহমান উল্লেখ করেন, উপযুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে রিলায়েবল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এবং বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে আপনাদের জানাতে চাই যে, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকসহ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে আমরা আমাদের জুয়েলারি ব্যবসা পরিচালনা করছি। আমরা বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস)-এর বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে বর্তমান বাজার দরে ব্যবসা পরিচালনা করছি।

সাকিবের প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,  আমরা সোনার পণ্যগুলো বর্তমান বাজারমূল্যে শুধু খুচরা পর্যায়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জড়োয়া হাউস, পূরবী জুয়েলার্স, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডসহ সকল জুয়েলার্স যে ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করে আমরাও তেমন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমাদের রিটেইল এবং আমদানি দুই ধরনের ব্যবসা পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। আমাদের ব্যবসার কর্মপরিধির সঙ্গে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আইন অধীনস্থ অথবা আইন পরিপন্থী পরিস্থিতির উদ্রেক হয়নি। আমরা স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ করে অন্য কারও কাছে কোনও ব্যবসা অফার করছি না। জুয়েলারি ব্যবসার সব নিয়মনীতি প্রতিপালন করেই আমরা ব্যবসা পরিচালনা করছি।

 

সাকিবের দুই স্বর্ণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট বিএসইসি

প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে।

অবশ্য এর আগে বিএসইসি চিঠির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাকিবের দুই প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান সাকিবের দুই প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়নি, ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠান দুটির নামের সঙ্গে যেহেতু এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আছে, সে কারণে কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) তাদের সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল।

সিএসই’র সেই অনুরোধে আমরা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে তাদের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে যেহেতু এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আছে, সে কারণেই জানতে চাওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ৮ (৪) অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত কোনও ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনও সিকিউরিটিজের জন্য ব্রোকার বা ডিলার হিসেবে কাজ করবে না। ফলে এ পরিস্থিতিতে কমিশনের অনুমোদন ছাড়া বা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য না হয়েও কমোডিটি ফিউচার কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ব্যবসা করার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে চায় কমিশন।

২৫ মের মধ্যে প্রতিষ্ঠান দুটিকে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয় চিঠিতে। চিঠির অনুলিপি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বাণিজ্য সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও দেওয়া হয়।

রিলায়েবল কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজিং পার্টনার রাশেক রহমান একটি  টিভি চ্যানেলে উল্লেখ করেন,  যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে  ও বাংলাদেশের আইন মেনে এই দুটি প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ ব্যবসা করছে। তিনি বলেন, স্বর্ণের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মস থেকে নামের নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে দুটি ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে। দুই জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়েই শোরুম করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর বনানীতে নিজের স্বর্ণ ব্যবসার শোরুম উদ্বোধন করেন সাকিব আল হাসান। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ডিলার হিসেবে অনুমোদন পায় সাকিবের বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি রংপুর ও কুমিল্লায় অফিস রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বিদেশ থেকে সোনার বার ও অলঙ্কার আমদানি করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি পায় ‘বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ কোং’।

/এমআর/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
মেঘনা গ্রুপের কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
মেঘনা গ্রুপের কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
হাট কাঁপাবে ‘টাঙ্গাইলের সম্রাট’
হাট কাঁপাবে ‘টাঙ্গাইলের সম্রাট’
‘আমাদের জন্য শিরোপা কঠিন হয়ে গেলো’
‘আমাদের জন্য শিরোপা কঠিন হয়ে গেলো’
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা
এ বিভাগের সর্বশেষ
ব্যাংকের টাকা ফেরত দিচ্ছে না যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো
ব্যাংকের টাকা ফেরত দিচ্ছে না যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো
যুদ্ধের প্রভাবে আবারও লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ
যুদ্ধের প্রভাবে আবারও লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ
‘ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভাবনের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে’
‘ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভাবনের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে’
ছুটির আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের তাগিদ শ্রম প্রতিমন্ত্রীর
ছুটির আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের তাগিদ শ্রম প্রতিমন্ত্রীর
রফতানি আয়ে রেকর্ড
রফতানি আয়ে রেকর্ড