আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে দেশে ‘দুর্ভিক্ষ হতে পারে’ বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশ চালান, তার কাছে হয়তো অনেক বেশি তথ্য উপাত্ত আছে। তাই তিনি এমন কথা বলেছেন। তবে আমাদের যে ফসল হয়েছে, খাদ্য মজুত আছে, আন্তর্জাতিক বাজারের খাদ্যপণ্যের দাম সব কিছু বিবেচনা করলে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখছি না।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) আয়োজনে দেশের সমসাময়িক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন অনেক আগে বলেছিলেন, ‘খাদ্যের অভাবে পৃথিবীতে কখনও দুর্ভিক্ষ হয়নি, হয়েছে সুষম বণ্টনের অভাবে’। আমাদের উৎপাদন ও মজুতের সমস্যা নেই। তবে যেটা হতে পারে তা হলো মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশের কারণে দেশের বড় অংশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এখন উৎপাদন ভালো হলেও মানুষ যদি ক্রয় করতে না পরে তাহলে সমস্যা দেখা দেবে। এজন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়াচ্ছে। এটা সঠিক নিয়মে বাড়াতে পারলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমেরিকা তাদের নিজেদের সুবিধার জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা (স্যাংশন) দেয়। আবার প্রয়োজনে ভেনিজুয়েলার মতো দেশের সঙ্গে চুক্তি করে। তাই তারা স্যাংশন দেবে কি দেবে না সেদিকে নজর না দিয়ে যেন স্যাংশন দেওয়ার সুযোগ না পায় এ বিষয়ে জোর দিতে হবে। আমাদের শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তৈরি পোশাক শিল্পকে এ পর্যায়ে এনেছে। বিশ্বে পোশাকের বাজার ৭০০ বিলিয়ন ডলার। এ শিল্পের বাইরে রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে এমন বড় খাত আমাদের অন্য একটাও নেই। রফতানি বহুমুখীকরণ করতে হবে, নতুন বাজারে যেতে হবে। তবে এ খাত বাদ দিয়ে নয়। এছাড়া আমাদের চামড়া খাত ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য রফতানিতে জোর দিতে হবে। বিশ্বে ফার্মাসিউটিক্যালে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার আছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্যে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসবে কি না, এলে কোন পদ্ধতিতে আসবে সেটি অনুমান করা কঠিন। আমরা দেখেছি, শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বলতে চাই, আমাদের যেসব জায়গায় উন্নতি করার প্রয়োজন আছে, সেগুলো যেন আমরা করি। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো আমরা করতে পারি।
ডলারের দাম খোলাবাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে বলে মনে করেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ডলারের দামের ক্ষেত্রে শক থেরাপি দিতে হবে। হয়তো নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। ডলারের দামে বড় ধরনের সমন্বয় করলে পণ্য আমদানি ব্যয় বাড়বে। তখন আমদানি শুল্ক কমানোর মতো আর্থিক উদ্যোগ নিতে হবে। যদিও ডলারের দাম বাড়লে পণ্য রফতানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা দিতে হবে না। অন্যদিকে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসা বাড়বে। এ ছাড়া ব্যাংকঋণের সুদের হারও বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার বিষয়ে মত দেন তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়েছি। রাজনৈতিক দলের উচিত তাদের প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণ করা। কীভাবে এত কম সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বাড়লো তা দেখার বিষয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাজ হবে তাদের সম্পত্তির উৎস বের করা।








