মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ১০১ কার্টন নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে, ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ব্যবহৃত মিনি পিসি, হার্ডড্রাইভ, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকার ডেলিভারি গেট-৮ সংলগ্ন ইয়ার্ডে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তর এবং এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তারা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সরদার গ্লোবাল ট্রেড সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পণ্যচালানটি আমদানি করে। চালানে মোটর পার্টস, কসমেটিকস, মিনি পিসি, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার পার্টস রয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফাহিম ফাইভ স্টার লিমিটেড এএসওয়াইসিইউডিএ ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করে।
তবে আগে থেকেই পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটকের পর কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, নতুন পণ্যের ঘোষণার আড়ালে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা বিদ্যমান আমদানি নীতিমালা ও কাস্টমস আইনের লঙ্ঘন।
কাস্টমস গোয়েন্দার তথ্যমতে, জব্দ করা ১০১টি কার্টনের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের (এইচপি, ডেল, লেনোভো ও মাইক্রোসফট) ৪৫০টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ৯৬৩ দশমিক ৮ কেজি অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ৬ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার ৯৬টি হার্ডড্রাইভ, ২৯১ দশমিক ১৪ কেজি কসমেটিকস এবং ৯৬টি ব্যবহৃত মিনি পিসি। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, জব্দ করা অধিকাংশ পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় শুল্ক-কর পরিশোধ করেও আইনানুগভাবে খালাসের সুযোগ নেই।
তারা আরও জানান, প্রয়োজনীয় আমদানি শর্ত পূরণ না করেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কসমেটিকস দেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য নতুন হিসেবে বাজারজাত করে ভোক্তাদের প্রতারণার আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া এসব পণ্য পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা বলেন, জব্দ করা মোটর পার্টসগুলো আসলে খুলে আনা কোনো গাড়ির অংশ কি না, কিংবা চেসিস বা অন্যান্য অংশ আলাদাভাবে দেশে আনা হয়েছে কি না—সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করে কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।









