একদিকে রাজস্ব বাড়াতে দেশের প্রত্যন্ত ইউনিয়নের ছোট দোকান পর্যন্ত ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), অপরদিকে নতুন ত্রৈমাসিক রিটার্ন ব্যবস্থায় ভ্যাট আদায় কমে যাওয়ায় আবারও পুরোনো মাসিক পদ্ধতিতে ফেরার চিন্তা করছে সরকার। ফলে ভ্যাট ব্যবস্থায় একই সময়ে দুই ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ সামনে এসেছে— করজালের পরিধি বাড়বে নিচের দিকে, আর আদায়ের সময়সীমা কমবে ওপরের দিকে।
এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা, উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার টাকা এবং জেলা সদর ও জেলা পৌর শহর এলাকায় ২ হাজার টাকা নির্ধারিত ভ্যাট নেওয়া হতে পারে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে তিন থেকে পাঁচ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার চিন্তা করছে এনবিআর। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলা, বাজার ও বিপণিবিতানের দোকানের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
অপরদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। ফলে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে চালু করা তিন মাস পরপর রিটার্ন দেওয়ার ব্যবস্থা আদৌ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এনবিআরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশ পুরোনো মাসিক ভ্যাট পরিশোধের পদ্ধতিতে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ভ্যাটের আওতা এবার ইউনিয়ন পর্যন্ত
এত দিন ভ্যাট ব্যবস্থার আলোচনায় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট কোম্পানি ও নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের কথাই বেশি এসেছে। এবার সেই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে। ইউনিয়নের ছোট দোকান, স্থানীয় বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন ব্যবসায়ীকে মাসে ৫০০ টাকা ভ্যাট দিতে হতে পারে। উপজেলা পর্যায়ে এ হার হতে পারে ১ হাজার টাকা এবং জেলা সদর ও জেলা পৌর শহর এলাকায় ২ হাজার টাকা।
অর্থাৎ ব্যবসার প্রকৃত লেনদেনের হিসাব করে প্রতিবার ভ্যাট নির্ধারণের বদলে নির্দিষ্ট এলাকার ভিত্তিতে একটি নির্ধারিত অঙ্ক আদায়ের ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করছে এনবিআর। এ কারণে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে অনেকটা পুরোনো ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
একদশক আগেও দেশে প্যাকেজ ভ্যাটের প্রচলন ছিল। ব্যবসার লেনদেন কম-বেশি হলেও অনেক ছোট ব্যবসায়ীকে নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট দিতে হতো। ২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন চালুর পর সেই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।এখন নতুন উদ্যোগে সেই ধারণাই কিছুটা ভিন্ন কাঠামোয় ফিরে আসতে পারে।
দোকানের তালিকা করছে এনবিআর
নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে ভ্যাট বিভাগ। কোথায় কত দোকান, কী ধরনের ব্যবসা, দোকানের অবস্থান, বিপণিবিতানের ধরন—এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এনবিআরের সংগৃহীত একটি তালিকায় দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদরের নুর নাহার প্লাজায় দোকান রয়েছে ৫২টি। এর মধ্যে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি রয়েছে এমন দোকান চারটি। রংপুর সিটির বেতপট্টি বাজারে দোকান রয়েছে ১২১টি। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী বাজারে দোকানের সংখ্যা ৫০।
এভাবে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও বাজারের তথ্য সংগ্রহ করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির চেষ্টা চলছে। তালিকা তৈরির পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন ব্যবসায়ী এই নির্ধারিত ভ্যাটের আওতায় আসবেন, সেটি চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কেন হঠাৎ ছোট ব্যবসায়ীদের দিকে নজর?
এর পেছনে রয়েছে রাজস্ব আদায়ের বড় চাপ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে মোট ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে। এর মধ্যে ভ্যাট থেকেই আদায়ের লক্ষ্য ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা।
এনবিআরের মোট রাজস্বের প্রায় ৩৮ শতাংশ আসে ভ্যাট থেকে। ফলে ভ্যাট আদায় কমে গেলে পুরো রাজস্ব ব্যবস্থার ওপরই চাপ তৈরি হয়।
বর্তমানে বার্ষিক বিক্রি বা লেনদেন ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সাধারণভাবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হয়। কিন্তু ৫০ লাখ টাকার নিচে লেনদেন করা অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। এনবিআর এখন এই বিশাল অংশকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনতে চায়।
প্রথম দুই মাসেই ধাক্কা
কিন্তু ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি এনবিআরের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট— প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২২ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে ভ্যাট আদায় কমেছে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা।
জুলাইয়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। আগের বছরের জুলাইয়ে আদায় হয়েছিল ১১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। আগস্টে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা; আগের বছরের আগস্টে যা ছিল ১১ হাজার ৮১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২২ শতাংশ। এই পতনের পরই ত্রৈমাসিক রিটার্ন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিন মাসের সুযোগে টাকা আটকে থাকছে?
ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক চাপ কমাতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়। আগের মতো প্রতি মাসে নয়, তিন মাস পরপর রিটার্ন জমা ও ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়।
এতে ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পেলেও এনবিআরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, সরকারের রাজস্ব প্রবাহে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশেষ করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করা ভ্যাটের অর্থ কিছু সময় নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ পাচ্ছে বলে কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন। এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) মাধ্যমে মোট ভ্যাটের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ আদায় হয়। ফলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ে সময় বাড়লে রাজস্ব প্রবাহে তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এনবিআরের আরেক অংশের কর্মকর্তারা বলছেন, মাত্র দুই মাসের তথ্য দিয়ে ত্রৈমাসিক পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ শেষে প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।
আবার মাসিক ভ্যাট?
তারপরও রাজস্ব আদায় ধরে রাখতে আবার মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চিন্তা করছে এনবিআর। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্ভাব্য ব্যবস্থায় রিটার্ন তিন মাস পরপর জমা দেওয়ার সুযোগ রেখে ভ্যাটের অর্থ মাসে মাসে পরিশোধের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।
অর্থাৎ ব্যবসায়ীর কাগজপত্রের চাপ কম থাকবে, কিন্তু সরকারের রাজস্বও দীর্ঘ সময় আটকে থাকবে না— এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে।
নীতির ঘন ঘন পরিবর্তনে ব্যবসায়ীদের আপত্তি
ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, ভ্যাট আদায়ের প্রয়োজন থাকলেও নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশের জন্য ভালো নয়।
এফবিসিসিআইর প্রশাসক ও ব্যবসায়ী নেতা মো. ফজলুল হক মনে করেন, তিন মাসের মধ্যে একটি নীতি পরিবর্তন ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো বার্তা দেয় না। তবে সরকারের অর্থের প্রয়োজন হলে মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ভ্যাট আদায়ের মাঠপর্যায়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভ্যাট আদায়ের সময় কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ‘শুভেচ্ছা বিনিময়ের’ যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা বন্ধ না করলে নিয়ম পরিবর্তনের সুফল মিলবে না।
অন্যদিকে ভ্যাট কনসালটেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপুর মতে, শুধু ত্রৈমাসিক রিটার্নের কারণেই ভ্যাট আদায় কমেছে— এমনটা বলা ঠিক হবে না। অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি এবং অন্যান্য অনেক বিষয় ভ্যাট আদায়ের ওপর প্রভাব ফেলে।
ছোট ব্যবসায়ীকে করজালে আনা কতটা বাস্তবসম্মত?
ইউনিয়ন পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই।
একজন ইউনিয়নের ছোট দোকানদারের কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা নেওয়া সরকারের জন্য হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয়। কিন্তু লাখ লাখ ব্যবসায়ীকে এই ব্যবস্থায় আনতে পারলে সরকারের জন্য তা বড় রাজস্ব উৎস হয়ে উঠতে পারে।
ধরা যাক, ৩ লাখ প্রতিষ্ঠানকে মাসে গড়ে ৫০০ টাকা করে ভ্যাট দিতে হলো। তাহলে বছরে আদায় হতে পারে ১৮০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ৫ লাখ হলে এবং গড় আদায় আরও বেশি হলে রাজস্বের পরিমাণও বাড়বে।
তবে অর্থের অঙ্কের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি দোকান শনাক্ত করা, তালিকাভুক্ত করা, ভ্যাট আদায় করা, হিসাব রাখা এবং তদারকি করতে গিয়ে যদি প্রশাসনিক খরচ ও হয়রানি বেড়ে যায়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও আসতে পারে।
ডিজিটাল পরিশোধে স্বস্তি, নজরদারিতে বড় চ্যালেঞ্জ
এনবিআর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ দিতে চাইছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে। অফিসে গিয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে আলাদা অ্যাপ চালু হলে আরও সহজ হতে পারে পুরো প্রক্রিয়া।
কিন্তু ডিজিটাল ব্যবস্থা তখনই কার্যকর হবে, যখন এর সঙ্গে স্বচ্ছ হিসাব, স্বয়ংক্রিয় রসিদ, অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমানোর ব্যবস্থা থাকবে।
আসল পরীক্ষা রাজস্ব নয়, আস্থা
দেশে বর্তমানে বিআইএনধারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। এখন এর বাইরে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও কর ব্যবস্থায় আনার চেষ্টা করছে এনবিআর। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের করভিত্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে করের আওতা বাড়ানোর অর্থ যেন শুধু নতুন একটি আর্থিক বোঝা তৈরি করা না হয়। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে যদি নিয়মিত করদাতা বানাতে হয়, তাহলে তাকে প্রথমে বোঝাতে হবে— কেন তিনি কর দেবেন, কীভাবে দেবেন এবং বিনিময়ে রাষ্ট্রের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা ও স্বচ্ছতা পাবেন।
একইসঙ্গে ত্রৈমাসিক রিটার্ন ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও আরও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ প্রয়োজন। মাত্র দুই মাসের আদায় কমার ওপর ভিত্তি করে নিয়ম পরিবর্তন করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নীতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
একদিকে ইউনিয়নের ছোট দোকানে ৫০০ টাকার ভ্যাট, অপরদিকে বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসে মাসে ভ্যাট আদায়ের চিন্তা— এখন এনবিআরের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে রাজস্ব বাড়বে, কিন্তু ব্যবসায়ীও বাড়তি হয়রানি বা অনিশ্চয়তার শিকার হবেন না।
কারণ শেষ পর্যন্ত রাজস্ব বাড়ানোর সবচেয়ে টেকসই পথ শুধু করের জাল বড় করা নয়, করদাতার আস্থা বাড়ানো।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘করজাল সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা ভালো। তবে এখানে ব্যবসার আকার, আয় ও পরিশোধ সক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে নিম্ন আয়ের ব্যবসায়ীদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ চাপ না পড়ে।’’
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় ২২ শতাংশ কমে যাওয়া— অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্বল ভোগ ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়। তাই নতুন ভ্যাট আরোপের আগে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা, সহজ নিবন্ধন এবং স্বচ্ছ ডিজিটাল আদায়ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।









