X
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩
১৭ মাঘ ১৪২৯

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৫১ শতাংশ

গোলাম মওলা
০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৩০আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৫২

বৈশিক সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের সুদিন যাচ্ছে। মার্কিন অফিসিয়াল সোর্স ‘অফিস অব টেক্সটাইলস আ্যন্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর এই ৯ মাসের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পোশাক আমদানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

অটেক্সা এর তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৭ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে। এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে তাদের পোশাক আমদানি ৫০ দশমিক ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ এই হারে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি বেড়েছে।

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক ও মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, হতাশাব্যাঞ্জক বিশ্ব অর্থনীতি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ তার প্রধান তিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চেয়ে বেশি হারে  পোশাক রফতানি করেছে। এটি অবশ্যই আশাব্যাঞ্জক। তবে  রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এ কারণে ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রয়কেন্দ্রে পোশাকের বিক্রি কিছুটা কমে গেছে। 

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারী-সেপ্টেম্বর সময়ে বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৩৪ দশমিক ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ার নিয়ে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পোশাক আমদানির ৩য় বৃহত্তম উৎস হিসাবে অবস্থান ধরে রেখেছে। 

চীন ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সর্ব বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী। এরপরে ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। ২০২২ সালের প্রথম ১০ মাসে চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ২৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১৭ দশমিক ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌছেঁছে। একই সময়ে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি ১৪ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, বছরওয়ারি ৩৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শীর্ষ পোশাক সরবরাহকারীদের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধিসহ অন্যান্য শীর্ষ দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া ৫৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ভারত ৫৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, কম্বোডিয়া ৪৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, পাকিস্তান ৪০ দশমিক ১১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৩৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার। প্রায় ১০ বছর আগে সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বাজারটিতে রফতানি কমে যায়। তারপর কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কারকাজ করেন উদ্যোক্তারা। ফলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি। অন্যদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ২০১৯ সালে দেশটির অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প উৎস হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেয়। তবে করোনার কারণে রফতানি আবার নিম্নমুখী হতে থাকে। গত বছরের মে মাস থেকে বাজারটিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আবার বাড়াতে শুরু করে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ তৃতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রফতানিকারক।

/ইউএস/
সর্বশেষ খবর
এক মাসে মেট্রোরেলে চড়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার যাত্রী
এক মাসে মেট্রোরেলে চড়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার যাত্রী
‘বাস্তবতার নিরিখে রাজধানীতে পাতাল রেল হচ্ছে’
‘বাস্তবতার নিরিখে রাজধানীতে পাতাল রেল হচ্ছে’
বিশ্বকাপ জয়ের পর ইন্সটাগ্রাম ব্লকড হয়েছিল মেসির!
বিশ্বকাপ জয়ের পর ইন্সটাগ্রাম ব্লকড হয়েছিল মেসির!
পাকিস্তানের মসজিদে পুলিশের ওপর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৭
পাকিস্তানের মসজিদে পুলিশের ওপর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৭
সর্বাধিক পঠিত
সংবাদ প্রকাশের পর কুমিল্লার হাইওয়ে হোটেলে অভিযান
সংবাদ প্রকাশের পর কুমিল্লার হাইওয়ে হোটেলে অভিযান
অভিনেত্রী আঁখির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক
অভিনেত্রী আঁখির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক
এনআইডি’র সঙ্গে সমন্বয় করে পাসপোর্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুপারিশ
এনআইডি’র সঙ্গে সমন্বয় করে পাসপোর্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুপারিশ
এসআইবিএল থেকে মাহবুব-উল-আলমের পদত্যাগ
এসআইবিএল থেকে মাহবুব-উল-আলমের পদত্যাগ
আলাদা ইউনিট করে রাজউকই পূর্বাচলে নাগরিক সেবা দেবে
আলাদা ইউনিট করে রাজউকই পূর্বাচলে নাগরিক সেবা দেবে