রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নতুন তিনজনকে মনোনয়ন দিয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে দুজন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। অপরদিকে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খানের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে তিনি আরও এক বছর এ ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে পৃথক চিঠি দিয়ে নতুন এমডি মনোনয়নের বিষয়টি জানিয়েছে। মনোনীত তিনজনকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে ব্যাংকগুলোর পর্ষদকে বলা হয়েছে।
নতুন মনোনয়ন অনুযায়ী, সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মাহবুব আলম জনতা ব্যাংকের এমডি, জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নূরুল হুদা বেসিক ব্যাংকের এমডি এবং যমুনা ব্যাংকের ডিএমডি নূর মোহাম্মদ অগ্রণী ব্যাংকের এমডি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন।
দুই ব্যাংকে বেসরকারি খাতের ব্যাংকার
জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের এমডি পদে বেসরকারি খাতের দুই ব্যাংকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মাহবুব আলম বর্তমানে সাউথইস্ট ব্যাংকের এএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, নূর মোহাম্মদ যমুনা ব্যাংকের ডিএমডি।
এ ছাড়া বেসিক ব্যাংকের এমডি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ডিএমডি নূরুল হুদা।
তিন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের নিয়োগ দেবে। মনোনয়ন অনুযায়ী, প্রত্যেকের নিয়োগের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং তা হবে চুক্তিভিত্তিক।
সোনালী ব্যাংকে বহাল শওকত আলী খান
সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খানের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্তও প্রত্যাহার করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। গত ১৯ অক্টোবর তার অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সোমবার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিষয়টি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদকে জানানো হয়েছে।
এর ফলে শওকত আলী খান আরও এক বছর সোনালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আরও দুই ব্যাংকে এমডি নিয়োগ বাকি
রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) ও রূপালী ব্যাংকের এমডি পদে এখনও কাউকে মনোনয়ন দেয়নি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
ফলে জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকে নতুন এমডি মনোনয়নের মধ্য দিয়ে তিনটি ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও বাকি দুই ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পদে নিয়োগ ও মেয়াদসংক্রান্ত এসব সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।