কমছে পেঁয়াজের দাম, কিন্তু কেন?

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ০১:৪৮, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

পেঁয়াজপেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পেঁয়াজের দাম পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। শনিবার (১৬ নভেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থানসহ রাজধানীর বাজারে ও পাড়া মহল্লার দোকানে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা পেঁয়াজ একদিনের ব্যবধানে সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে। পাশাপাশি আমদানি করা মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে, যা শনিবার বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন পেঁয়াজের দাম আর বাড়বে না, ক্রমান্বয়ে কমবে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও মহল্লার দোকানে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষ পেঁয়াজ কেনা অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ-কেউ পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। আবার কেউ-কেউ পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে বাজারে পেঁয়াজ কেনার প্রবণতা কমে গেছে। রাজধানীসহ দেশের সব অঞ্চলে অবস্থিত হোটেল রেস্তোরাঁর মালিকরা তাদের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সালাদে পেঁয়াজের ব্যবহার বাদ দিয়েছেন। এতে বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা দ্রুত কমতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে বাজারে। অপরদিকে অনৈতিক মুনাফার লোভে পেঁয়াজের মজুত গড়ে তুলতে থাকেন অসাধু পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ব্যবসায়ীরা এ কাজটি করেছেন। এক সময় মজুত করা পেঁয়াজে পচন ধরে। যা নদীতে, ড্রেনে বা ডাস্টবিনে ফেলতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কার্গো বিমানে করে মিশর, তুরস্ক ও আফগানিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক মিশর ও তুরস্কে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক মিশর থেকে এস আলম গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান মঙ্গলবার দেশে আসার খবরে পেঁয়াজের গরম বাজার হঠাৎই স্থিতিশীল হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) মিশর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের চালান আসছে−সোমবার (১৮ নভেম্বর) এমন খবরটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত ঘোষণার পরই বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে। এছাড়া বাজারে পেঁয়াজের পাতাসহ কচি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে।       

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী গোলাম রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা কমে গেছে। মানুষ পেঁয়াজ কেনা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। তাই বিক্রি কমছে প্রতিদিন। মঙ্গলবার বিদেশ থেকেও বিমানে করে পেঁয়াজ আসছে বলে শুনছি। অপরদিকে বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। 

শান্তিনগর কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন জানান, পেঁয়াজের ব্যবসা শেষ। যা করার তা এ বছরের মতো করা হয়ে গেছে। নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে, আবার বিদেশ থেকে বিমানে করেও পেঁয়াজ আসছে। তাই শেষ সময় যা আছে তা ছেড়ে দিচ্ছি। একসঙ্গে তো দাম কমানো যায় না, তাই আস্তে-আস্তে কমাচ্ছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাম উল্লেখযোগ্যহারে কমবে।

আমদানিকারক হাজী এম এ মাজেদ জানান, পেঁয়াজ বেশি দিন ধরে রাখা যায় না। তাই দাম কমতে শুরু করেছে।

জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার মিশর থেকে এস আলম গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান আসছে। নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম অবিশ্বাস্য হারে কমবে। এর বাইরেও মিশর ও তুরস্ক থেকে জাহাজযোগে আনা পেঁয়াজ অল্প সময়ের মধ্যেই বন্দরে এসে পৌঁছাবে।’ 

/এনআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ