আরও কমলো রফতানি আয়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৪৫, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৫, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

রফতানির উল্লেখযোগ্য খাত

২০১৯-২০ অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি আয় কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এই আয় ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, একক মাস হিসেবে নভেম্বরে রফতানি আয় হয়েছে ৩০৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, কিন্তু টার্গেট ছিল ৩৭২ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ টার্গেটের তুলনায় নভেম্বরে রফতানি আয় কমেছে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর গত বছরের নভেম্বরে রফতানি আয় হয়েছিল ৩৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। ফলে একক মাস হিসেবে প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৮০৫ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু, আয় হয়েছে এক হাজার ৫৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম।

অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট রফতানি আয়ে পোশাকের অবদান প্রায় ৮৩ শতাংশ। তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্য পণ্যগুলোকে রফতানির উপ-খাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৫ শতাংশে দাঁড়াবে। তাই তৈরি পোশাকের রফতানি কমলে তার প্রভাব পড়ে পুরো রফতানি খাতে।

তৈরি পোশাক খাতের মালিকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কম। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন না করা ও অবকাঠামোগত সমস্যা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারসহ নানা কারণে রফতানি আয় নিম্নমুখী।

অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পোশাক রফতানিতে আয় হয়েছে এক হাজার ৩০৮ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। এই সময়ে রফতানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের বড় খাতগুলোতেও রফতানি আয় কমেছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি আয় প্রবৃদ্ধি কমেছে। পাঁচ মাসে চামড়াজাত খাত থেকে রফতানি আয় এসেছে ৩৯ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কম। প্রবৃদ্ধিও কমেছে ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ। কৃষিপণ্য রফতানিতে আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৪৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলার হয়েছে। প্লাস্টিক পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পাঁচ মাসে এ খাতে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

তবে একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি বেড়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৪০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, এই অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৪ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।

 

/জিএম/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ