সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে: এফবিসিসিআই সভাপতি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:০৫, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১০, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম

সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের অনেক সম্মান করেন। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এটি বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা মনে করে এফবিসিসিআই।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিনদিনব্যাপী সিরামিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী। এসময় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও  সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে না পারায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন শেখ ফজলে ফাহিম। অর্থমন্ত্রীর বিষয়ে তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ১১ মাস পর অর্থমন্ত্রী বললেন, সুদের হার এত বেশি যে, বাংলাদেশে ব্যবসা করা কঠিন। ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে এই ১১ মাস উনি কী করলেন?  অর্থমন্ত্রী কি ঘুমিয়ে ছিলেন? যখন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাপ আসে তখন তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন। এটি দুঃখজনক।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশে গত দশ বছরে সিরামিক খাতে ৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০০ শতাংশ। এফবিসিসিআই মনে করে, তৈরি পোশাকের পরই সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিরামিক। পোশাক খাত যেসব সুবিধা পায়, তা এসব খাতে দেওয়া উচিত। তবে তা অনুপস্থিত। এক্সপোর উদ্বোধনীতে এনবিআর চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকায় উষ্মা প্রকাশ করেনএফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আজকে এখানে এনবিআর চেয়ারম্যানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এটি দুঃখজনক যে, আজকের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অনেক দেশি বিদেশি ব্যবসায়ী উপস্থিত থাকলেও তিনি অনুপস্থিত। অবশ্য তার অনুপস্থিত থাকার কারণ হয়তো আছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ আছে। গত দশ বছরে ১৮৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৩২০ ডলার থেকে ১৯০৯ ডলার হয়েছে। সেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভাগ এনবিআর কর্মকর্তাদের সহযোগিতার ঘাটতি ও পেশাগত অযোগ্যতা খুবই দৃশ্যমান। উদাহরণ হিসেবে বলতে চাই, আমদানি করা সিরামিকের কাঁচামালের মধ্যে ৩০ শতাংশ ময়েশ্চার থাকে। সেই ময়েশ্চারের ওপরও কর দিতে হয়। সম্পূরক শুল্ক বা এসডি দিতে হয়। অথচ এসডি আরোপ করা হয় দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। এ ক্ষেত্রে এসডি অভ্যন্তরীণ শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ জন্যই হয়তো এনবিআর চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।

 

/জিএম/টিএন/

লাইভ

টপ
X