‘উন্নয়ন দর্শন এখন বাজার অর্থনীতি নির্ভর হয়ে গেছে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:০৬, জুন ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৬, জুন ২২, ২০২০

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপেক্ষিত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ তামাকবিরোধীরা। তারা বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং তামাকবিরোধীদের দাবি অনুযায়ী বাজেটে তামাক কর ও মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করলে তামাকপণ্যের ব্যবহার কমার পাশাপাশি তামাক খাত থেকে বছরে ১১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জন করা সম্ভব হতো। যা দিয়ে করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত থোক বরাদ্দ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় করা যেতো।
সোমবার (২২ জুন) প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)-এর উদ্যোগে ২০টি তামাকবিরোধী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনলাইন বাজেট প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা এ হতাশা ব্যক্ত করেন তারা। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ভার্চুয়াল বাজেট প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, আমরা বারবার বলছি তামাকের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বাড়াতে হবে। কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমাদের উন্নয়ন দর্শন এখন বাজার অর্থনীতি নির্ভর হয়ে গেছে যে কারণে জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, টিভি টুডে’র এডিটর ইন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তরুণ অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাজেট অর্থায়নে ব্যাংকিং খাতের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো নয়। সরকারের হাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বাড়তি রাজস্ব আহরণের একটি সুযোগ রয়েছে। তামাকপণ্য থেকে অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব, যা বাজেট অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, তামাকপণ্যের কর ও দাম বাড়ানোর সবচেয়ে বড় সুফল হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে তামাক ব্যবহার শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত করা। দরিদ্র মানুষের তামাক ব্যবহারের স্বাস্থ্যক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য অনেক কম। সুতরাং দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদেরকেও তামাকপণ্য ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হলে এটা তাদের জন্য উপকারই হবে।

অনলাইন বাজেট প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানের মূল উপস্থাপনায় প্রজ্ঞা জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের ৪টি মূল্যস্তরের পরিবর্তে ২টি মূল্যস্তর প্রচলন এবং সম্পূরক শুল্কের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট কর (স্পেসিফিক ট্যাক্স) হিসেবে আরোপ করার দাবি প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন নেই। সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখায় ভোক্তা তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্রান্ড বেছে নিতে পারবে, ফলে সিগারেটের ব্যবহার কমবেনা। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্তর ভেদে সিগারেটের দাম সর্বোচ্চ ৫.৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, অথচ এসময়ে জনগণের মাথাপিছু আয় (নমিনাল) বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ। ফলে সিগারেটের প্রকৃত দাম কমবে। প্রস্তাবিত বাজেটে টানা চতুর্থ বছরের মত বিড়ির সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে জনস্বাস্থ্যবিরোধী। এর ফলে বিড়ি মালিকদের আয় ২৮.৫ শতাংশ বেড়ে যাবে।

/এসআই/এমআর/

লাইভ

টপ
X