চাল-ডালের বাজারে অস্থিরতা, কমেছে আদা ও মুরগির দাম

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৮:২৪, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৮, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

নিত্যপণ্যের বাজার

বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। বেড়েছে ডালের দামও। পাশাপাশি ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও আদার দাম। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্যও বলছে, গত সপ্তাহের তুলনায় মোটা চালের দাম বেড়েছে দুই শতাংশ। আর চিকন চালের দাম বেড়েছে এক শতাংশ। টিসিবির হিসাবে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি আদার দাম কমেছে ২০ শতাংশের মতো। আর ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে ৬ শতাংশ।

অবশ্য টিসিবির হিসাবে পেঁয়াজের দামও কমেছে ১০ শতাংশের মতো। তবে বাজারে দেখা যায়, গত সপ্তাহের দামেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। ভালো দেশি পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। এর বাইরে  সয়াবিন তেল, শুকনো মরিচ ও পাম অয়েলের দামও বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, ‘বাজারে আদা ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে, বাকি সব পণ্যের দামই বাড়তি।’ তিনি বলেন, ‘সবজির দাম বেশি, চালের দাম বাড়তি, পেঁয়াজের দাম বাড়তি। ডালের দাম বাড়তি।’ তার মতে, তরকারিসহ সবকিছুর দামই বাড়তি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কমলাপুর এলাকার ব্যবসায়ী রতন কুমার বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কমেনি। ১১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।’ চাল-ডাল ছাড়াও সয়াবিন তেল, শুকনো মরিচ ও পাম অয়েলের দামও বাড়তি বলে জানান তিনি।

টিসিবি’র তথ্যমতে, গত এক বছরে চিকন, মাঝারি ও মোটা—এই তিন ধরনের চালের দামই বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে চালের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। এখন খুচরায় প্রতিকেজি মোটা চাল ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা, মাঝারি চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও সরু চাল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির হিসাবে, গত এক বছরে গরিবের মোটা চালের দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশ। চিকন চালের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ, আর মাঝারি মানের চালের দাম বেড়েছে এক শতাংশ।

বর্তমানে এক কেজি আলু কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। গত বছরের এই সময়ে এই পণ্যটির দাম ছিল প্রতিকেজি ২০ টাকা। টিসিবি বলছে, গত এক বছরে আলুর দাম বেড়েছে ৬৫ শতাংশ।

সবজি বাজার

এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, চার ধরনের ভোজ্যতেলের দামই বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল মানভেদে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ছিল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দামও বেড়েছে। এখন প্রতি লিটার পাম ৭৫ থেকে ৮০ টাকা ও পাম সুপার ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল যথাক্রমে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা ও ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

টিসিবি জানায়, গত এক বছরে খোলা পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ, পাম অয়েল সুপারের দাম বেড়েছে ৩১ শতাংশ, বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ। আর খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ। তাছাড়া প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজিতে তিন টাকা বেড়ে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা হয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মাঝারি দানা মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা মসুর ডালের দাম এখন ৭০-৭৫ টাকা কেজি, দেশি ছোট দানার মসুর ডাল ১২০ টাকা। টিসিবি’র হিসাবে, গত এক বছরে চার ধরনের ডালের দাম বেড়েছে।  মসুর ডাল বড় দানার দাম বেড়েছে ২১ শতাংশ, মসুর ডাল মাঝারি দানার দাম বেড়েছে ৩৮ শতাংশ, ছোট দানার দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ। এছাড়া মুগ ডালের দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ। বর্তমানে দেশি আদার কেজি ১০০ টাকা। চীন থেকে আমদানি করা আদা কিনতে হচ্ছে প্রতিকেজি ২০০ টাকার বেশি দামে। আমদানি করা রসুনের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে ব্যবধানে দেশি শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ। আমদানি করা শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ। টিসিবির হিসাবে, গত বছরের তুলনায় দেশি শুকনো মরিচের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ৪২ দশমিক ৪২ শতাংশ। হলুদ, এলাচ, দারুচিনির পেছনেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২৫ টাকায়—যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কম। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ১১০ টাকা ডজন। ফার্মের হাঁসের ডিম কিনতে লাগছে ১৫০ টাকা। গরুর মাংসের দাম এখন ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি।

শীতের আগাম সবজি বাজারে এলেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। কারণ, করলা, বরবটি, চিচিঙ্গা, বেগুন, কাঁকরোলসহ বেশিরভাগ সবজির দামই এখন প্রতিকেজি ৬০ টাকার ওপরে। সবচেয়ে কম দামি সবজি পেঁপের দাম ৩৫ টাকা কেজি। ছোট আকারের ফুলকপি, বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা। শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-২২০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে। পটল ৫০ টাকা কেজি, টমেটো ১২০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১৮০ টাকা কেজি। বাজারে সবজির দাম ক্রেতাদের কাছে উচ্চমূল্য মনে হলেও বিক্রেতারা বলছেন—আগের চেয়ে সবজির দাম কমেছে। যাত্রাবাড়ী এলাকার সবজি ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘কিছু দিন আগে কোনও কোনও সবজি ৫০-৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছিল না। শীতের কিছু আগাম সবজি আসায় এখন কিছুটা দাম কমেছে।

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ