দাম বাড়লো এলপিজির: বিইআরসিকে ক্যাবের চিঠি

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২৩:০০, অক্টোবর ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৫, অক্টোবর ১০, ২০২০

এলপিজিমূল্য নিয়ন্ত্রণে উচ্চ আদালত এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) উদ্যোগের মধ্যেই সারাদেশে একযোগে বেড়েছে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম।  এরমধ্যেই এলপিজির দাম বৃদ্ধি করায় সংশ্লিষ্টদের ব্যবসায়ীক অনুমোদন এবং লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়ে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে বিইআরসিকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল রবিবার (১১ অক্টোবর) চিঠিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিইআরসি‘র কাছে যাবে।
সারাদেশে ডিলারদের গত সপ্তাহ থেকে এলপিজির দাম বৃদ্ধি করতে বলেছে অপারেটররা। এতে সারাদেশে ১২ কেজির বোতলে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এবার কেন্দ্রীয় ভাবে দাম না বাড়িয়ে কৌশলে ডিলারদের দিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এলপিজি আমদানি এবং বিপণনকারীরা। এতে উচ্চ আদালত এবং বিইআরসি সরাসরি তাদের ধরতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
দাম নির্ধারণে বাংলাদেশের  ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য নির্ধারণে বিইআরসিকে একটি রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। ওই আদেশে বলা হয়েছে আইন অনুযায়ী এলপিজির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির।
উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী বিইআরসি কমিটি গঠন করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এই প্রতিবেদনের উপর সম্প্রতি একটি গণশুনানিও করেছে বিইআরসি। ওই শুনানিতে বলা হয়, কিছু উদ্যোগ নিলে দেশে এলপিজির দাম আরও কমানো সম্ভব। এমনকি প্রতিবেশী দেশে আমাদের চেয়ে অনেক কম দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে বলে বিইআরসি উল্লেখ করে।
জ্বালানি বিভাগের তরফ থেকেও বলা হচ্ছে এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আর এটি করতে হলে বিইআরসির মাধ্যমেই মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তবে সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যেই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো এলপিজির। এতে চাইলেও সেখান থেকে খুব বেশি দাম কমানো সম্ভব হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব এর জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, উচ্চ আদালতের এমন নির্দেশনার মধ্যে এলপিজির দাম বাড়াতে পারে না কোম্পানিগুলো। দাম যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে জন্যই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যেই দাম বৃদ্ধি করে দিয়েছে তারা।
এদিকে বিইআরসিকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে ক্যাব। ওই চিঠিতে অবৈধভাবে দাম বাড়ানোর জন্য এলপিজি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আইনের ২২ (খ) এবং ৩৪ ধারা মতে এলপিজির মূল্য নির্ধারণের একক এখতিয়ার বিইআরসির। গত ২৫ আগস্ট উচ্চ আদালত গণশুনানির মধ্যমে এলপিজির দাম নির্ধারণের জন্য গৃহীত কার্যক্রমের উপর ৩০ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে আদেশ দেন। এই নির্দেশ বলবত থাকার মধ্যে এলপিজির দাম বৃদ্ধি অবৈধ। মূল্যবৃদ্ধির জন্য বিইআরসি আইনের ৪৩ ধরা মোতাবেক এলপিজির মূল্য বৃদ্ধিতে জড়িত ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাবে বলে জানা গেছে।
বিইআরসির সদস্য মকবুল ই ইলাহি চৌধুরী বলেন, এলপিজির দাম নির্ধারণ করতে হলে একটি প্রবিধানমালা করতে হবে। এই প্রবিধানমালা ২০১২ সাল থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। তিনি বলেন, বিইআরসি কাজ করছে। আপাতত দাম নির্ধারণে কী কী মানদণ্ড থাকতে হবে তা নিয়ে কাজ করছি। এদিকে বিইআরসির অন্য একজন সদস্য বলেন, এলপিজি এখন নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো, বিপিসি। এখন আবার বিইআরসিকে দায়িত্ব দিচ্ছে। এখন ঠিক করা দরকার কে নিয়ন্ত্রণ করবে এই দাম। এসব জটিলতা না কাটলে দাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

/এমআর/

লাইভ

টপ