করোনায় মুদিপণ্যের ই-কমার্সই রমরমা, বাকিরা টেনশনে

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ২৩:৩০, অক্টোবর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৫৩, অক্টোবর ২৯, ২০২০

123135852_2452494591725265_1333124741918152209_n
শোনা যাচ্ছিল করোনাকালে দেশের ই-কমার্স খাত এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এমন কানাকানির জেরে বাড়তি আয়ের আশায় অনেকেই ‘একটা কিছু’ করার চিন্তা থেকে সাত-পাঁচ না ভেবে বিনিয়োগ করে বসছেন এই খাতে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হিসাবটি ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মুদিপণ্যের প্রবৃদ্ধিকে বিবেচনায় নিয়ে সামগ্রিক ই-কমার্স খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলা চলে না।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রবৃদ্ধি যা হয়েছে তা রাজধানীকেন্দ্রিক, তাও শুধু মুদিপণ্যে। ঢাকার বাইরে ই-কমার্সে কোনও প্রবৃদ্ধি হয়নি, বরং কমেছে। রাজধানীর বাইরে অনেক প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিও বন্ধ ছিল টানা কয়েক মাস।

ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও সেবার সঙ্গে জড়িতদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) কাছে এ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘করোনার এই সময়ে তাদের নিবন্ধিত ১ হাজার ৩৪০ সদস্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য ডেলিভারির সংখ্যা ৫ লাখ। নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ৫০ হাজার। সরাসরি উপকারভোগী হয়েছেন ৬০ লাখ মানুষ।’ মার্চের পর থেকে তাদের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এ খাতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার। মার্চের শুরুতে যা বেশ কম ছিল।

তিনি জানান, ই-ক্যাবের সদস্য ছাড়াও নিবন্ধিত ফেসবুকে পেজের (এফ-কমার্স) সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। করোনাকালের আগে যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। ই-ক্যাবের দাবি, প্রবৃদ্ধি যা হয়েছে তা কেবল মুদিপণ্যে। তবে সেটা কত শতাংশ, তার কোনও পরিসংখ্যান নেই। সাধারণ সম্পাদকের দাবি, বিষয়টি অনেকগুলো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। শুধু শতাংশ দিয়ে বললে পরিষ্কার হবে না।

বেসিসের সাবেক সভাপতি ও ই-কমার্স উদ্যোগ আজকেরডিল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুরের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, ই-কমার্সে আমরা দুই ধরনের চিত্র দেখতে পাই। বিশেষ করে করোনাকালে ঢাকার ভেতরের চিত্র এক রকম আবার ঢাকার বাইরের চিত্র আরেক। করোনাকালে ই-কমার্সে সামগ্রিকভাবে মুদি আইটেম নিয়ে যারা কাজ করেছে তাদের গ্রোথ ভালো ছিল। তিনি মনে করেন, সার্বিকভাবে দেশে ই-কমার্স ১৫-২০ শতাংশ কমেছে। তবে ঢাকায় ২০-৩০ শতাংশ বেড়েছে। বেশিরভাগই গ্রোসারিতে। 

তিনি আরও জানান, গত ২-৩ মাসে ই-কমার্স আবার আগের অবস্থানে ফিরেছে। তার আশঙ্কা, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসলে ই-কমার্সেও আবার ভাটা পড়বে।

নিজের প্রতিষ্ঠান আজকেরডিল-এর উদহারণ দিয়ে মাশরুর বলেন, আমাদের ৮০ শতাংশ ক্রেতা ঢাকার বাইরের। আমরা এখনও ব্যবসা আগের অবস্থায় নিতে পারিনি। অনেক ক্রেতা হারিয়েছি। হারানো ক্রেতাদের ৩০ শতাংশ এখনও ফিরেই আসেনি। তিনি জানান, করোনাকালের এপ্রিল ও মে’তে আজকেরডিলের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ছিল।  

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনাকালে ইভ্যালির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির পাশপাশি পরিধিও বেড়েছে। তিনি বলেন, গ্রাহকের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে আমরা চালু করেছি ফুড এক্সপ্রেস তথা ই-ফুড সার্ভিস। গ্রাহকের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্য পৌঁছানোর জন্য চালু করি ইভ্যালি এক্সপ্রেস। এটাতেও দারুণ সাড়া পেয়েছিলাম। ইবাজার নামে আরেকটি সেবা চালু করি। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে খামারিরা তাদের কোরবানির পশু বিক্রি করতে পেরেছিলেন।

আরেক ই-কমার্স জায়ান্ট দারাজের প্রবৃদ্ধি করোনাকালে বেশ ভালো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটপ্লেস অপারেশন্স কামরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সর্বোপরি দারাজের অর্ডার বেড়েছে দেড়গুণ। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ায় কিছু ক্যাটাগরিতে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, শুধু ফিটনেস ইকুইপমেন্টের চাহিদা বেড়েছে আগের চেয়ে ৫ গুণ।   

এদিকে করোনার সময়ে চালু হওয়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ডিএক্সটেল ডট কম ডট বিডি মোবাইল গ্যাজেটস ও একসেসরিজে ভালো করেছে বলে জানা গেছে। এবার তারা অতি জরুরি ওষুধ হোম ডেলিভারির উদ্যোগ নিচ্ছে। ডিএক্স ফার্মা নামের এই সেবা নভেম্বরের ৫ তারিখে চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী দেওয়ান কানন। 

এ ছাড়া গ্যাজেটস ও একসেসরিজে পিকাবু ডট কম ও গ্যাজেটস অ্যান্ড গিয়ার, শিশুদের পণ্যের জন্য দ্রুত বিকাশমান ই-কমার্স আলাদিন ডট কম, অর্গানিক পণ্যের নিওফারমার্সও এই সময়ে আলোচনায় ছিল।

অনলাইন গ্রোসারিতে শীর্ষস্থানের দাবিদার চালডাল ডট কম করোনার আগে প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই হাজার অর্ডার পেত। করোনার সময় তা ৫-৬ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ডেলিভারি ম্যানের সংখ্যা বাড়িয়ে, বিভিন্ন জায়গায় ওয়্যার হাউজ স্থাপন করে সংকটকালে সেবা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এখন দিনে তাদের অর্ডার আসছে ৪-৫ হাজার।

/এফএ/

লাইভ

টপ