X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

চাল আমদানির এলসি খোলার হার বেড়েছে পৌনে ৬ হাজার শতাংশ

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৩৭

বাজার স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপকভাবে চাল আমদানি হচ্ছে। তথ্য বলছে, বিগত যেকোনও সময়ের চেয়ে দেশের প্রধান খাদ্যপণ্য চাল আমদানি বেড়েছে। গত এক বছরে (জুলাই ২০২০ তুলনায় জুলাই ২০২১) চাল আমদানির এলসি খোলার হার বেড়েছে ৫ হাজার ৭৫৭ শতাংশ, যা যেকোনও সময়ের চেয়ে রেকর্ড। একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তির হার বেড়েছে এক হাজার ৮৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে চাল আমদানি বাড়লেও বাজারে কোনও  প্রভাব নেই দামে। সরকারি তথ্যই বলছে, দেশে মোটা চালের কেজিই এখন ৪৫ টাকার ওপরে। সরু চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, গত এক বছরে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে সরু চালের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। মাঝারি চালের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশের বেশি। আর মোটা চালের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এদিকে বাজারের তথ্য বলছে, গরিবের মোটা চালের দাম এখন ৪৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি।  চিকন চালের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, সবকিছুর আগে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমদানি ছাড়া বিকল্প আর কিছুই নেই।

তিনি বলেন, চাল আমদানি বাড়লেও অর্থনীতিতে এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ, দুই মাস ধরে সামান্য কমলেও  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক স্থানে আছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানি সেই অর্থে শুরু হয়নি। তবে আমদানি যেভাবে বেড়েছে তাতে চালের দাম কমে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে দেদার চাল আমদানি হচ্ছে। আর এর ফলে সরকারি গুদামগুলোতে চালের মজুত বেড়ে ১৬ লাখ টন ছাড়িয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মজুত ১৮.২৭ লাখ মেট্রিক টন। এরমধ্যে চালের মজুত ১৬.০২ লাখ মে টন। গমের মজুত ১.৬৬ লাখ মেট্রিক টন। ধান মজুত রয়েছে ০.৯১ লাখ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-জুন সময়ে অর্থাৎ পুরো অর্থবছরে চালের জন্য ২ লাখ ৫৩ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস শুধু জুলাইতে চালের জন্য এলসি খোলা হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ডলারের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) চাল আমদানির জন্য ৮৭ কোটি ৬২ লাখ ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) একই সময়ে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৩৩৫৬.৮৯ %।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত জুলাইয়ে চাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ হাজার ৮০ ডলারের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে চাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৪ কোটি ২ লাখ ডলারের; অর্থাৎ গত এক বছরে এলসি নিষ্পত্তির হার বেড়েছে  ৪৯৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৭২ হাজার ডলারের।

চালের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে গত বছরের শেষের দিকে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। একইসঙ্গে সরকারি উদ্যোগেও চাল আমদানি অব্যাহত রাখা হয়। কিন্তু প্রথম দিকে ব্যবসায়ীরা চাল আমদানিতে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পর মার্চ থেকে তারা চাল আমদানির গতি বাড়িয়ে দেয়। এখনও সেটা অব্যাহত আছে। ২০২১ সালের শুরু থেকেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি গুদামে মজুত এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়।

অবশ্য চালের বেশিরভাগই আমদানি হচ্ছে ভারত থেকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমদানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য সব মিলিয়ে ৬ হাজার ৭০৩ কোটি ৪২ লাখ (৬৭.০৩ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

/এফএএন/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ ১টা-৩টা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে
গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ ১টা-৩টা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে
তারেক জিয়াকে দেশে ফেরাতে আলোচনা চলছে: তথ্যমন্ত্রী 
তারেক জিয়াকে দেশে ফেরাতে আলোচনা চলছে: তথ্যমন্ত্রী 
যে ‘গেম চেঞ্জার’ অস্ত্র চায় ইউক্রেন, দিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র
যে ‘গেম চেঞ্জার’ অস্ত্র চায় ইউক্রেন, দিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র
বিরোধী দলের দুর্বলতার দায় কার?
বিরোধী দলের দুর্বলতার দায় কার?
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত