X
রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩
১৪ মাঘ ১৪২৯

একবছরে ৫ পণ্যের দাম এক টাকাও বাড়েনি

গোলাম মওলা
০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:১১আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯:০৩

গত এক বছরে বেশ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পণ্যের দাম এক টাকাও বাড়েনি, বরং কেজিতে দাম কমেছে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যে এমনটিই তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ৫ পণ্যের মধ্যে আমদানি করা পণ্য রয়েছে ৪টি। অর্থাৎ ডলার সংকটের মধ্যেও ৪টি আমদানি করা পণ্যের দাম গত এক বছরে বাড়েনি, উল্টো কমেছে।

টিসিবির তথ্য বলছে, ৫৩টি আইটেমের মধ্যে আমদানি করা রসুনের দাম কমেছে কেজিতে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বাজারে এখন এই রসুনের দাম ১৩০ টাকা কেজি। গত বছরের এই সময়ে আমদানি করা রসুন কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি দামে (১৪০ টাকা) ক্রেতাদের কিনতে হয়েছে।

এছাড়া গত এক বছরে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ১৫ টাকা। এখন ৩৫ টাকা কেজি দরে দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু গত বছরের এই সময়ে ক্রেতাদের ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। টিসিবির হিসাবে গত এক বছরে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ১৯.০৫ শতাংশ।

ডলার সংকটের কারণে প্রায় বছরজুড়েই অধিকাংশ জিনিসপত্রের দাম বাড়তি। তবে মুগ ডালের দাম বাড়েনি। প্রতিকেজি মুগ ডালের দাম এখন ৯৫ টাকা। গত বছরের এই সময়ে এক কেজি মুগ ডাল কিনতে খরচ হয়েছে ১২০ টাকার মতো। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মুগ ডালের দাম কেজিতে কমেছে ৮ শতাংশ।

গত বছরের এই সময়ে প্রতি কেজি এলাচের দাম ছিল ৩২শ’ টাকা। এখন সেই একই এলাচ ১৮শ’ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এলাচের দাম কেজিতে কমেছে ৯.৪৩ শতাংশ। এছাড়া গত এক বছরে তেজপাতার দাম কেজিতে কমেছে ২০ টাকার মতো। টিসিবির তথ্য বলছে, গত এক বছরে তেজপাতার দাম কেজিতে কমেছে ৫.৭১ শতাংশ। টিসিবি জানায়, গত বছরের এ সময়ে তেজপাতার কেজি ছিল ১৫০ টাকা। এখন এক কেজি তেজপাতা ১৩০ টাকাতেই পাওয়া যাচ্ছে।

অবশ্য টিসিবির তথ্যমতে, এই ৫টি ছাড়া বাকি সব পণ্যের দামই বেড়ে গেছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম প্রতিকেজিতে বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকার কাছাকাছি। এরমধ্যে গুঁড়াদুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ২৮০ টাকা। জিরার দাম বেড়েছে কেজিতে ২৭০ টাকা। দেশি শুকনো মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ২৫০ টাকা। আমদানি করা শুকনো মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ২৩৫ টাকা। আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ১২০ টাকা। এছাড়া চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকার মতো। আটা-ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকার বেশি।

সীমিত আয়ের মানুষেরা বলছেন, যখন চালের কেজি ৫০ টাকা ছিল, তখন ৩২ টাকায় এক কেজি আটা পাওয়া যেতো। এখন দাম দ্বিগুণ বেড়ে ৬৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এদিকে বাজারে গত এক মাসে তিন দফা বেড়ে আটার দাম প্রতি কেজি ৭৫ টাকায় ঠেকেছে। দুই কেজি ওজনের প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। খোলা আটা পাওয়া যাচ্ছে ৫-১০ টাকা কমে।

বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম রাখা হচ্ছে ১৯০ টাকা। এছাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে বেড়েছে মোটা চালসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম। মোটা চাল ন্যূনতম কেজিপ্রতি বেড়েছে ২ টাকা। আর মাঝারি ও চিকন চালের দাম বেড়েছে ২-৫ টাকা পর্যন্ত। বাজারে মোটা পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬০ টাকা কেজি। মাঝারি মানের মিনিকেট ৭০-৭২ টাকা ও সরু নাজির চাল ৭৫-৮৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে পাইজাম চালের দাম বেড়েছে ২ টাকা, মিনিকেট ২ টাকা ও ভালো মানের নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। চিকন চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৬৮ টাকা, মাঝারি বা পাইজাম চাল ২ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা এবং মোটা চাল কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। কিছুটা কমতি সবজির দামও। সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন,  বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় কমেছে এর দাম। তাতে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। কয়েকটি ছাড়া বাকি সব সবজির দাম মোটামুটি ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে সবজির সরবরাহ আরও বাড়বে এবং দাম আরও কমবে বলে বিক্রেতারা জানান।

খুচরা বাজারে পেঁপে ও মুলা ৩০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। শীতকালীন অন্যান্য সবজির কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কিছু সবজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে, যেগুলো গ্রীষ্মের। এরমধ্যে শিম, পটলের তুলনায় অন্য সবজির দাম বেশি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পুরোনো আলু ২৮ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, পটল ৫০, শসা ৮০-১০০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, ব্রকলি ৮০-১০০ টাকা ও পেঁয়াজ পাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৬০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা করে এবং লালশাক প্রতি আঁটি দাম ১০ টাকা।

মানিকনগর এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে তিনি ৫০-৬০ টাকায় যেই ফুলকপি বিক্রি করেছেন, এখন সেটির দাম ৩০ টাকা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর সবজি ঢাকায় আসছে। আগামী দুই-তিন মাস সবজির বাজার স্বাভাবিক থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর প্রভাবে কিছুটা কমেছে সোনালি মুরগির দামও। কেজিপ্রতি সোনালি মুরগির দাম পড়ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা। যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা কম। ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পাইকারিতে প্রতি ডজন বাদামি রঙের ফার্মের ডিমের দাম ১১০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা হালিপ্রতি ডিমের দাম রাখছেন এখন ৪০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে কমেছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও গরু ও খাসির মাংস একই দামে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পুঁটি মাছের কেজি ২৫০ টাকা, বড় রুই মাছ ৪৫০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০ টাকা, শিং মাছ ৫০০ টাকা, টাকি মাছ ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ টাকা, রূপচাঁদা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বোয়াল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১১০০ টাকা এবং এক কেজির কম ওজনের ইলিশ ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/এপিএইচ/এমওএফ/
সর্বশেষ খবর
সংকট সমাধানে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার
ওয়েবিনারে বক্তারাসংকট সমাধানে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার
‘পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে’
‘পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে’
নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে সংসদ নির্বাচনের তারিখ জানাবে: আইনমন্ত্রী
নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে সংসদ নির্বাচনের তারিখ জানাবে: আইনমন্ত্রী
ফেনীতে ‘গোপন বৈঠক’ থেকে জামায়াতের ১২ নেতাকর্মী আটক
ফেনীতে ‘গোপন বৈঠক’ থেকে জামায়াতের ১২ নেতাকর্মী আটক
সর্বাধিক পঠিত
খাবারের দাম দ্বিগুণ, বাস মালিক-হাইওয়ে হোটেলগুলোর সিন্ডিকেট
খাবারের দাম দ্বিগুণ, বাস মালিক-হাইওয়ে হোটেলগুলোর সিন্ডিকেট
যে জুটি কখনও ব্যর্থ হয়নি
যে জুটি কখনও ব্যর্থ হয়নি
হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে রিয়াজ, দিলেন ব্যাখ্যাও
হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে রিয়াজ, দিলেন ব্যাখ্যাও
নতুন উচ্চতায় মাশরাফি
নতুন উচ্চতায় মাশরাফি
চলতি বছরেই ট্রেন যাবে কক্সবাজার
চলতি বছরেই ট্রেন যাবে কক্সবাজার