বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেছেন, করোনা মহামারির সময়ও বিশ্বজুড়ে মোট বিমা প্রিমিয়ামের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি কম ছিল। তবে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশে বিমা প্রিমিয়ামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক শূন্য ৪ ভাগ।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আইডিআরএ কার্যালয়ে জাতীয় বিমা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে মোট বিমা প্রিমিয়ামের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ ভাগে নেমে এসেছিল। সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৩ ভাগ। ২০২২ সালে তা আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫২ বছরে দেশে বিমা কোম্পানির সংখ্যা এখন ৮১টি। এরমধ্যে লাইফ বিমা কোম্পানি আছে ৩৫টি। আর নন-লাইফ বিমা ৪৬টি। গত কয়েক বছরে নানামুখী সংকটের মধ্যেও জীবন বিমার তহবিল ও সাধারণ বিমার সম্পদ দুটোই বেড়েছে।
তিনি জানান, ‘আমার জীবন আমার সম্পদ, বিমা করলে থাকবে নিরাপদ’—প্রতিপাদ্যে আগামী বুধবার (১ মার্চ) সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় বিমা দিবস পালন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিবসটির উদ্বোধন করবেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে জয়নুল বারী বলেন, ২০২২ সালের শেষে গ্রস প্রিমিয়ামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে লাইফ বিমার গ্রস প্রিমিয়ামের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৯৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর নন-লাইফে এ পরিমাণ ৫ হাজার ৪১৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যা সংকটের এই সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় তারল্যের জোগান দিচ্ছে।
তিনি বলেন, লাইফ ও নন-লাইফ বিমা কোম্পানির অর্জিত প্রিমিয়ামের ওপর ২০২২ সালে ১ হাজার ৩০৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ভ্যাট ও ট্যাক্স সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরে লাইফ এবং নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯ কোটি ১২ লাখ ৮৬৯টি বিমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে।
তিনি আরও বলেন, এসময়ে দেশের অর্থনীতিতেও এই খাতের অবদান বেড়েছে। দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ বিমার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক লাখ মানুষের।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বিমা খাতে বিরাজমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের উদ্দেশে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে আইডিআরএ। বিমা শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের উন্নত, সমৃদ্ধ, স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে আইডিআরএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিমা খাতের উন্নয়নের জন্য ১১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার সরকারি অর্থায়ন এবং বিশ্বব্যাংকের ৫১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকাসহ মোট ৬৩২ কোটি টাকার অর্থায়নে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রকল্পের সরকারি অর্থায়ন ১১৮ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২৫ কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬৩২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৬৭২ কোটি টাকা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স একাডেমি, সাধারণ বিমা করপোরেশন এবং জীবন বিমা করপোরেশনকে পেশাদারত্ব এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।









