দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন আশা জাগাচ্ছে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে দেশকে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
৫ এপ্রিল পর্যন্ত একক দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ২০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত—১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৪০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে এসেছিল মাত্র ১১৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে একসপ্তাহের রেমিট্যান্স প্রবাহে ৩৫৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ডলারের স্থিতিশীলতা, প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধির ধারা, এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিভিন্ন প্রান্তের উন্নত অর্থনীতিতে কর্মরত হওয়ায় তারা নিয়মিত এবং বৃহৎ পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন।
অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্সের মোট প্রবাহ ২৬,৭৪৯ মিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ২১,৯০৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২২.১ শতাংশ বৃদ্ধি। অর্থাৎ, প্রবাসী আয় দেশে প্রবেশের দিক থেকে এটি ইতিবাচক সংকেত, যা বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি পূরণে এবং স্থিতিশীল বিনিময় হারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূলধন সরবরাহ এবং উৎপাদন খাত ও ভোক্তা চাহিদা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া, প্রবাসী রেমিট্যান্সে স্থিতিশীল বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী ও টেকসই করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।








