জ্বালানিসংকটের প্রভাবে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে, দোকানপাট ও শপিং মলের খোলার সময় পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমানের যৌথ স্বাক্ষরে মঙ্গলবার বিকালে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সন্ধ্যা সাতটায় দোকান বন্ধ করার ফলে ব্যবসায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। খুচরা বিক্রির প্রায় ৬০–৭০ শতাংশই সন্ধ্যার পর হয়। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়ীরা কর্মীদের বেতন ও দোকানভাড়া প্রদানে হিমশিম খেতে পারেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকান ব্যবসায়ীরা পথঘাটে বসলে আড়াই কোটি শ্রমিকের জীবন ও জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়, দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ হবে। অধিকাংশ ব্যবসায়ী এটি মেনে নিলেও কেউ কেউ আগের মতো রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রেখেছেন।
এরপর শুক্রবার ব্যবসায়ীরা রাত আটটা পর্যন্ত দোকান খোলার সুযোগ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে তারা শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী গত রবিবার জানান, দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ছয়টার পরিবর্তে সাতটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
ব্যবসায়ীরা আরও একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সকালে দোকানপাটে ক্রেতা সমাগম কম থাকে। তাই বেলা ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান চালু রাখলে দিনের একটি সময় বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে কর্মসংস্থান, সরকারি রাজস্ব ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও সর্বনিম্ন রাখা যাবে।
সমিতির নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার এই প্রস্তাব বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।









