এলডিসি উত্তরণে খাতভিত্তিক কর্মকৌশল চান উদ্যোক্তারা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৭ আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৭

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে এসএমই, কৃষি, ওষুধ, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে কর্মকৌশলের কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। 

উদ্যোক্তারা বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর রফতানি সুবিধা কমে আসার পাশাপাশি মেধাস্বত্ব, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এসব মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ব্যবহার, সহজ অর্থায়ন, লজিস্টিকস সুবিধা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘এলডিসি উত্তরণের জন্য সংস্কার কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। 

সভায় বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর। এতে বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় বাজারে জিএসপি ও ইবিএর মতো শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ওষুধসহ বিভিন্ন শিল্পে মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বিধিবিধান আরও কঠোর হবে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মুক্ত আলোচনায় উদ্যোক্তারা বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে কর্মকৌশল তৈরি করা হলে তা কার্যকর হবে না। এ জন্য মাঠপর্যায় থেকে সঠিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে কোন খাতের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা অগ্রাধিকারভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় একক জানালা ব্যবস্থা (ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো) পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, “দেশের প্লাস্টিক শিল্পের বড় একটি অংশ অনুকরণভিত্তিক পণ্য তৈরি করে। এলডিসি উত্তরণের পর এ খাতেও মেধাস্বত্ব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশলসহ কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।” 

পটুয়াখালী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইসমাত জেরিন খান বলেন, “এলডিসি উত্তরণের কর্মকৌশল যেন শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক শিল্পের জন্য না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।” প্রান্তিক পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব অধিকার নিয়ে বাংলাদেশ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ওষুধ, কৃষি ও কৃষি রাসায়নিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” তাই পেটেন্টের আওতাভুক্ত দেশে উৎপাদিত পণ্যগুলোর দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ রেজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প-১-এর জাতীয় বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মো. মুনির চৌধুরী বলেন, “বেসরকারি খাতকে নিজ নিজ খাতের চ্যালেঞ্জগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠন এবং ফলাফলভিত্তিক কর্মকৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।” 

সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, “এলডিসি উত্তরণের জন্য পাওয়া অতিরিক্ত তিন বছর সময় সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বাড়বে।” 

তিনি দেশের সব জেলা চেম্বার ও খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনকে নিজ নিজ খাতের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে এফবিসিসিআইকে জানানোর আহ্বান জানান। এসব প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি। 

সভায় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান, সাপোর্ট টু সাস্টেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেছার আহমেদ, মহাসচিব মো. আলমগীরসহ বিভিন্ন সহায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বিজিএমইএর পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মুস্তাফিজ, বিকেএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদ, বিজেএমএর চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, বিটিএমএর পরিচালক সাজিদ ইশরাক, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সংগীতা আহমেদ, বাংলাদেশ বহুমুখী পাটজাত পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. রাশেদুল করিম মুন্নাসহ বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা সভায় অংশ নেন। বাণিজ্য, শিল্প, বিএসটিআই ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

/জিএম/এসটি/ 
সম্পর্কিত
এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই, আশাবাদী বাণিজ্যমন্ত্রী
এফবিসিসিআইর প্রশাসক ফজলুল হকের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই
লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান
সর্বশেষ খবর
স্বাস্থ্য খাতকে ‘মাদার অব অল দুর্নীতি’ বললেন এমপি নাসের রহমান
স্বাস্থ্য খাতকে ‘মাদার অব অল দুর্নীতি’ বললেন এমপি নাসের রহমান
জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার
জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার
রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী, ভক্তদের উচ্ছ্বাস
রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী, ভক্তদের উচ্ছ্বাস
‘লুপাস’ রোগে ভুগছেন সেলেনা গোমেজ, বদলে গেছে কণ্ঠ
‘লুপাস’ রোগে ভুগছেন সেলেনা গোমেজ, বদলে গেছে কণ্ঠ
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির