দেশের বাজারে এবার স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে ১৯০ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত সভায় নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কত হলো স্বর্ণের দাম
বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৮ হাজার ৮৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১৬ হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৩ হাজার ২৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৮১ টাকা। এর সঙ্গে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যোগ হবে।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা। সে হিসাবে এক ভরিতে দাম বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ২১৪ টাকা।
তবে এর আগের কয়েক দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। ২৮ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তারও আগে ২৬ সেপ্টেম্বর একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ১৯ হাজার ৯৭০ টাকা।
ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে স্বর্ণের বাজারে একাধিকবার দাম পরিবর্তন করেছে বাজুস।
রুপার দামও বাড়লো
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার অলংকারের দামও বাড়িয়েছে বাজুস।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার অলংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৫৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ছিল ৩৫৫ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে ১৫ টাকা।
আলাদা করে ভ্যাট নেওয়া যাবে না
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে বিক্রয়মূল্যের বাইরে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে অলংকার তৈরির মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে।
পুরোনো স্বর্ণের অলংকার বদলের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত এ দাম কার্যকর থাকবে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বর্ণের দাম কয়েক দফা পরিবর্তন করেছে বাজুস। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।