যেকোনও দেশের উন্নয়নে বিদ্যুৎ দরকার। এই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শুধু উৎপাদন ব্যবস্থা নয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দায়বন্ধতা’ শীর্ষক প্রচরণা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) এবং ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। সকালের উদ্বোধনী সেশনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী।
স্রেডার চেয়ারম্যান ড. মো. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, আরইবি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈনউদ্দিন, এফইআরবি’র চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সাইফুল হক বক্তব্য রাখেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণকারী উভয় কোম্পানিকেই সাশ্রয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে বিদ্যুৎ বিতরণ করলে সাশ্রয় এমনিতেই হবে।’
এসময় সাংবাদিকদের এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন দক্ষ যোগাযোগ কৌশল। নির্দিষ্ট গ্রুপের জন্য নির্ধারিত যোগাযোগ প্রদ্ধতি রপ্ত করা দরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয় বাস্তবায়ন অভিযান ও প্রচারণা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটার সফল বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে।’
পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে শুধু সরকার নয়, সরকারের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে যারা কাজ করছেন, বিদ্যুৎ নিয়ে যারা গণমাধ্যমে লিখছেন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির মান একটি বড় বিষয়। সস্তা কিন্তু মান ভাল নয় এমন জিনিস ব্যবহার করা থেকে গ্রাহককেও সচেতন থাকতে হবে। অনেক সময় মানুষ নেই কিন্তু এক বিল্ডিংয়ে দুইটা লিফট চলে। আবার অনেক সময় রুমে কেউ নেই কিন্তু বাতি ও ফ্যান, এসি চলছেই। এই বিষয়গুলো যদি বিবেচনায় নেওয়া যায় তাহলে অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।’
স্রেডার চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে স্রেডার জন্মলগ্ন থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। এরইমধ্যে স্রেডা ঢাকার বাইরের অনেক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে নানা ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও দেশের সচেতন নাগরিকরা যদি এগিয়ে আসে তাহলে কাজটি আরও সহজ হয়ে যায়।’







