দেউলিয়ার পথে পিডিবি, বোঝা বাড়বে জনগণের 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:২৬আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:২৬

‘বিশেষ বিধান’ আইনের আওতায় সম্পাদিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো দেশের স্বার্থে নয়, বরং ব্যক্তি বিশেষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এখন দেউলিয়ার পথে এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর অধীনে সম্পাদিত চুক্তিসমূহ পর্যালোচনায় গঠিত জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। 

কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালে পিডিবির লোকসান ছিল যেখানে মাত্র ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, ২০২৫ সালে তা দশগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে পিডিবির প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে খরচ হয় ১২ টাকা ৩৫ পয়সা, কিন্তু তারা বিক্রি করছে মাত্র ৬ টাকা ৬৩ পয়সায়। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, পিডিবিকে কেবল টিকিয়ে রাখতেই বিদ্যুতের দাম অন্তত ৮৬ শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন। 

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্য ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বিশেষ আইনের আড়ালে হওয়া চুক্তিগুলোর কারণে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৮০ শতাংশ, তেলে ৫০ শতাংশ এবং গ্যাসে ৪৫ শতাংশ বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। এটি প্রকৃতপক্ষে বিশেষ বিধান আইনের আড়ালে ক্রয় ও চুক্তি প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে রাষ্ট্র দখলের রূপ নেয়। যেখানে লেনদেন-ভিত্তিক সম্পর্কের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ ও চুক্তি সীমিত সংখ্যক স্বার্থান্বেষীর পক্ষে ঝুঁকে পড়ে।” 

তিনি বলেন, “দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারিদের সার্বভৌম গ্যারান্টি ও আন্তর্জাতিক সালিশি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আদানি) অথচ ঝুঁকির দায় বাংলাদেশের। গ্যাস শেষের পথে তারপরও সামিট গ্রুপকে একই জায়গায় একাধিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে।” 

কেবল ‘বিশেষ বিধান’ আইন বাতিল করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করে জাতীয় কমিটি। ওই আইনের আওতায় সম্পাদিত আদানি চুক্তি বাতিল, অন্যান্য চুক্তি পর্যালোচনা করা, সব চুক্তি না হলেও যেসব চুক্তির মাধ্যমে রক্তক্ষরণ হচ্ছে সেগুলোও আবার পর্যালোচনা চালানোর পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এখনই কঠোর সংস্কার না করলে এই সংকট স্থায়ী হবে এবং ভর্তুকির পাহাড়সম বোঝা সাধারণ মানুষের ওপরই চেপে বসবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত এই ৫ সদস্যের কমিটি দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। 

/এসএনএস/এসটি/ 
সম্পর্কিত
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির দাবি
জেট ফুয়েলের দাম কমলো
মঙ্গলবার যেসব এলাকায় ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না  
সর্বশেষ খবর
বন্ধ পাটকল চালুতে বড় বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নতুন আশা
বন্ধ পাটকল চালুতে বড় বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নতুন আশা
বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স-মরক্কো
বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স-মরক্কো
চট্টগ্রামের দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন জামায়াত আমির
চট্টগ্রামের দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন জামায়াত আমির
আমদানি নীতিতে পরিবর্তন, বিনিয়োগে আসছে নতুন আইন
আমদানি নীতিতে পরিবর্তন, বিনিয়োগে আসছে নতুন আইন
সর্বাধিক পঠিত
বিমানের ওভারটাইম: কেউ ঘুমান রেস্ট রুমে, কেউ মসজিদে, মাসে গচ্চা দেড় কোটি
বিমানের ওভারটাইম: কেউ ঘুমান রেস্ট রুমে, কেউ মসজিদে, মাসে গচ্চা দেড় কোটি
খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, তবে আড়ালে অন্য চিত্র
খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, তবে আড়ালে অন্য চিত্র
যে কারণে হত্যার শিকার আলোচিত সেই শিশু, খুনি থাকতো পাশের ঘরে
একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ডযে কারণে হত্যার শিকার আলোচিত সেই শিশু, খুনি থাকতো পাশের ঘরে
লন্ডন অচল করা ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মিলিয়নার হ্যাকার কে এই তালহা
লন্ডন অচল করা ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মিলিয়নার হ্যাকার কে এই তালহা
সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক’ 
সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক’