নেপাল থেকে বছরে পাঁচ মাস জলবিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ, প্রতিদিন এই বিদ্যুৎ পরিমাণ ৪০ মেগাওয়াট। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে নেপালের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। বছরের বাকি সাত মাস নেপাল থেকে কোনও বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় না। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ বাড়ায় নেপালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়ে যায়। ফলে ওই সময়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রফতানি করে দেশটি।
ভারতের সঞ্চালন গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। এ জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ), ভারতের ‘বিদ্যুৎ ভ্যাপার নিগাম লিমিটেড (এনভিভিএন)’ ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি সই করেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ত্রিপক্ষীয় এই বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি সই হয়। চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্ট, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৭ থেকে ৮ টাকা পড়ে।
চুক্তির আওতায় প্রথমবার নেপাল থেকে বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর। পরে ২০২৫ সালের ১৫ জুন থেকে প্রতি দিন ৪০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করে আসছে। ভারতের মুজাফফরপুর-বাহারামপুর হয়ে বাংলাদেশের ভেড়ামারা গ্রিড দিয়ে এই বিদ্যুৎ আনা হয়।
তবে ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া বন্যায় নেপালে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হয়। এরপর ২৭ আগস্ট রাত ৮টা থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বন্ধ করে দেয় নেপাল। ওই দিনও বাংলাদেশকে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়েছে।
পিডিবির এক কমকর্তা জানান, এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। নেপাল অন্য কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এক্ষেত্রে যেহেতু ভারতের গ্রিড ব্যবহার করা হয়, তাই তাদের অনুমোদনের একটা ইস্যুও আছে। সব মিলিয়ে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ পেতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।









