X
বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২
২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

ব্যাংকনির্ভর শেয়ার বাজারে আস্থার সংকট কোথায়?

গোলাম মওলা
১১ মার্চ ২০২২, ২০:২১আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ০৯:১২

ব্যাংকের প্রতি মানুষের যেমনটি আস্থা আছে, শেয়ার বাজারের প্রতি তেমনটি নেই। তাই এই বাজারের প্রতি মানুষের  আস্থা বাড়াতে এবার ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে এর ফলও পেতে শুরু করেছে শেয়ার বাজার।  পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের প্রধান হিসাব কর্মকর্তাদের (সিএফও) বিনিয়োগের আশ্বাসে সপ্তাহের শেষ দিনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ার বাজার। তাতে অব্যাহত দরপতনের পর মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা এই তিন দিন সূচকের উত্থান হয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) গৃহীত উদ্যোগ এই বাজারকে গুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে। বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোনও কোম্পানির শেয়ারের দাম এক দিনে ২ শতাংশের বেশি কমতে পারবে না। কারণ, শেয়ারের দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা বা সার্কিট ব্রেকার বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২ শতাংশে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ইস্যুতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দরপতন ঠেকাতে মঙ্গলবার (৮ মার্চ) নতুন করে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করে বিএসইসি। এতে বলা হয়, কোনও কোম্পানির শেয়ার একদিনে ২ শতাংশের বেশি কমতে পারবে না, যা বুধবার থেকে কার্যকর হয়। পাশাপাশি বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য পুঁজিবাজার স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থে‌কে ১০০ কো‌টি টাকা বি‌নি‌য়ো‌গের জন্য আইসিবি‌কে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএসইসির সার্কিট ব্রেকার বেঁধে দেওয়া ও ব্যাংকের সিএফওদের বিনিয়োগের আশ্বাস— এই বাজারকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।

তথ্য বলছে, ৯ কর্মদিবস পর বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে এই বাজারে। আগের দিন বুধবার (৯ মার্চ) বিএসইসির সঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রধান হিসাব কর্মকর্তাদের (সিএফও) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিএফও’রা জানান, সব ব্যাংক এখনও এক্সপোজার অনুসারে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেনি। তারা কয়েকদিনের মধ্যে ন্যূনতম ২ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে। এছাড়াও যেসব ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করেনি, সেসব ব্যাংক দ্রুত ফান্ড গঠন করে বিনিয়োগ করবে।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের আশ্বাসের ফল

ব্যাংকের প্রধান হিসাব কর্মকর্তাদের বিনিয়োগের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬১ কোটি ২০ লাখ ৬৬ হাজার টাকার শেয়ার। এর মাধ্যমে ৯ কর্মদিবস পর এদিন পুঁজিবাজারে লেনদেন হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করে। এর আগে সর্বশেষ হাজার কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৪০ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৮ পয়েন্ট বাড়ায় মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৪৬৫ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার টাকা। এতে সর্বশেষ তিন দিনে বিনিয়োগকারীদের বাজার মূলধন অর্থাৎ পুঁজি বেড়েছে ১৩ হাজার ১৭১ কোটি ৪৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

ডিএসইর তথ্য বলছে, এ বাজারের প্রধান সূচকটি ৬ হাজার ৬৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অবশ্য গত মাসের মাঝামাঝি থেকে সূচক কমতে শুরু করে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে সূচকের এ পতন আরও ত্বরান্বিত হয়। সঙ্গে লেনদেনও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ১৫ ফেব্রুয়ারিও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ওপরে। সেটি কমে এখন নেমে এসেছে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার ঘরে।

তবুও বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার কোটি টাকা

শেষ দুই কার্যদিবসে বড় উত্থান হলেও গত সপ্তাহে পতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি  শেয়ার বাজার। গত সপ্তাহে  ডিএসইর বাজার মূলধন তিন হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। এর মাধ্যমে টানা চার সপ্তাহের পতনে ৩১ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই। সেই সঙ্গে কমেছে সবকটি মূল্য সূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। তথ্য বলছে, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেল সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে তিন হাজার ৩২১ কোটি টাকা। এছাড়া আগের টানা তিন সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছিল ২৮ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। এতে চার সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৩১ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা।

সূচক কমেছে ২৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট

গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ২৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ১৪২ দশমিক ৯২ পয়েন্ট।  আগের সপ্তাহে কমেছিল ১৫১ দশমিক ৯২ পয়েন্ট। তারও আগের সপ্তাহে কমেছিল ৯৪ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট।

প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে কমেছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও। গত সপ্তাহজুড়ে এই সূচকটি কমেছে ৩৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ৫২ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট। তার আগের সপ্তাহে কমেছিল ৫৮ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট এবং তারও আগের সপ্তাহে কমেছিল ২৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট।

এদিকে প্রধান মূল্য সূচক ও ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত বাছাই করা সূচকের পাশাপাশি টানা চার সপ্তাহ কমেছে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক। গত সপ্তাহে এই সূচকটি কমেছে ৬ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ৩৩ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট। তারও আগের সপ্তাহে কমেছিল ৩২ দশমিক ৪২ পয়েন্ট এবং তার আগের সপ্তাহে কমেছিল ৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট।

গড়ে লেনদেন দৈনিক ৭৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা

গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৭৪৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৪৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৯৭২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল তিন হাজার ৭৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এই হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ২২৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে

বাজার মূলধন কমলেও গত সপ্তাহে ডিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৬টির। আর ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬২ কোটি ৪১ লাখ ৭ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফরচুন সুজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৬৪ কোটি ৩৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ১৩৩ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

/এপিএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, ৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, ৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার
ভুয়া তথ্য ছড়ানোয় অভিযুক্ত রুশ টিভির প্রতিবাদকারী
ভুয়া তথ্য ছড়ানোয় অভিযুক্ত রুশ টিভির প্রতিবাদকারী
ধুনট ছাত্রলীগের সা. সম্পাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ
ধুনট ছাত্রলীগের সা. সম্পাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ
আদালত প্রাঙ্গণে প্রতারণা, যুবকের ১৫ দিনের জেল
আদালত প্রাঙ্গণে প্রতারণা, যুবকের ১৫ দিনের জেল
এ বিভাগের সর্বশেষ
দুই সিদ্ধান্তে চাঙা হলো শেয়ার বাজার
দুই সিদ্ধান্তে চাঙা হলো শেয়ার বাজার
শেয়ার বাজারে অস্থিরতা কাটছে না
শেয়ার বাজারে অস্থিরতা কাটছে না
আবারও বেঁধে দেওয়া হলো দরপতনের সর্বনিম্ন সীমা
আবারও বেঁধে দেওয়া হলো দরপতনের সর্বনিম্ন সীমা
মূলধন কমেছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা
অস্থিরতায় কাবু শেয়ার বাজারমূলধন কমেছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা
লেনদেন কমে গেছে শেয়ারবাজারে
লেনদেন কমে গেছে শেয়ারবাজারে