সেকশনস

প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব হতে পারে, তবে...

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৬, ১৩:২২

প্রবৃদ্ধি (প্রতীকী) প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে সংশয় আছে। তবে সরকারের আন্তরিকতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অবকাঠামোগত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থান তৈরিসহ অনেক খাতেই কোনও ইতিবাচক পরিকল্পনা নেই।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বেসরকারি খাতে আরও ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলে নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এর সঙ্গে অবকাঠামোগত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে।’
তার মতে, ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কী কৌশল নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা নেই বাজেটে।
আরও পড়ুন: প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৮০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ লাগবে: সিপিডি

এদিকে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ অর্জন হওয়ায় আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতো অর্থমন্ত্রীও মনে করেন, এই প্রবৃদ্ধি অর্জন স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক কর্মপরিবেশ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর নির্ভর করছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সম্প্রতি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন করায় ব্যক্তি খাতের এ বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চলমান থাকবে। এছাড়া সরকারি বিনিয়োগ তথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী মনে করেন, সরকারি কর্মচারীরা আগামী অর্থবছরে নতুন বেতন স্কেলে বেতন ও ভাতা দুটোই পাবেন, যা ভোগ ব্যয় বাড়াবে। রফতানিবাজার বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনীতিতে গতিশীল সম্ভাবনা রয়েছে, যা রফতানি আয় বাড়াবে। প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়ার হার বাড়ায় প্রবাসী আয় বাড়বে। আবার মূল্যস্ফীতিও কমছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি কমায় ব্যক্তি খাতে ভোগ ব্যয় বাড়াবে। সর্বোপরি চলমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অবশ্যই উচ্চাভিলাষী: অর্থমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ অর্জন হলেও আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতি বছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো সম্ভব হবে না। এ কারণে আগামী বছরে প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে।

তিনি বলেন, আগামী বছরে যে প্রবৃদ্ধিটা করতে হবে, এটার অনুঘটক হতে হবে শিল্প ও কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি। শিল্প ও কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি করতে গেলে কেবল যে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে তা নয়, বিনিয়োগের উৎকর্ষতাও বাড়াতে হবে। সেটার চ্যালেঞ্জটা কিন্তু আগামী বছর বেশি হবে।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাজেট পর্যালোচনায় ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বেসরকারি খাতে আরও ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। যদিও ব্যক্তি খাতে বাড়তি এই ৮০ হাজার কোটি টাকা কিভাবে বিনিয়োগ হবে তার কোনও রূপ রেখা নেই।

আগামী অর্থ বছরের প্রবৃদ্ধি নিয়ে একই ধরণের মন্তব্য করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লক্ষ্য অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন করা দুঃসাধ্য হবে। এর মূল কারণ হচ্ছে, ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে গেলে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বিনিয়োগ হওয়া দরকার জাতীয় উৎপাদনের ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ। অথচ বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ। তার মানে হচ্ছে, আগামী এক বছরে ৩ শতাংশ বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি মোটেও সন্তোষজনক নয়। আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত এই বাজেটে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

আরও পড়ুন: বাজেট পাস না হলেও মোবাইল ফোন থেকে টাকা কাটা শুরু

এজে/

সম্পর্কিত

শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৬

রাত পোহালেই দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভায় ভোট

রাত পোহালেই দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভায় ভোট

ডিএসইতে মূলধন বাড়লো ২ লাখ কোটি টাকা

ডিএসইতে মূলধন বাড়লো ২ লাখ কোটি টাকা

রেড নোটিশের ২ মানবপাচারকারী গ্রেফতার, বাকিরা নজরদারিতে

রেড নোটিশের ২ মানবপাচারকারী গ্রেফতার, বাকিরা নজরদারিতে

চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির ৫২ প্রার্থী চূড়ান্ত

চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির ৫২ প্রার্থী চূড়ান্ত

দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হবে অভিন্ন শহীদ মিনার

দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হবে অভিন্ন শহীদ মিনার

নির্বাচনে সন্ত্রাস হচ্ছে: জাপা মহাসচিব

নির্বাচনে সন্ত্রাস হচ্ছে: জাপা মহাসচিব

বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এমপিওভুক্তির দাবি

বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এমপিওভুক্তির দাবি

তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরেও তদন্তে ধীরগতি: শিক্ষার্থীর বাবা

তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরেও তদন্তে ধীরগতি: শিক্ষার্থীর বাবা

ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের বাসায় থাকার নির্দেশনা

ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের বাসায় থাকার নির্দেশনা

গোপনীয়তার নীতি সম্পর্কে যা বলছে হোয়াটসঅ্যাপ

গোপনীয়তার নীতি সম্পর্কে যা বলছে হোয়াটসঅ্যাপ

ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ২৩ প্রতারক গ্রেফতার

ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ২৩ প্রতারক গ্রেফতার

সর্বশেষ

ব্রিজ ভেঙে নদীতে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিহত

ব্রিজ ভেঙে নদীতে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিহত

গৃহহীনদের পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক

গৃহহীনদের পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক

ভাসানচরে নির্মিত হচ্ছে বিদেশি সংস্থায় কর্মরতদের জন্য ভবন

ভাসানচরে নির্মিত হচ্ছে বিদেশি সংস্থায় কর্মরতদের জন্য ভবন

উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে পরিকল্পনাবিদদের প্রতি আহ্বান

উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে পরিকল্পনাবিদদের প্রতি আহ্বান

নাটোরে ৩ পৌরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন

নাটোরে ৩ পৌরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন

শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৬

মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

রাত পোহালেই দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভায় ভোট

রাত পোহালেই দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভায় ভোট

অর্ধকোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে সঞ্চয় সমিতির পরিচালক

অর্ধকোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে সঞ্চয় সমিতির পরিচালক

ডিএসইতে মূলধন বাড়লো ২ লাখ কোটি টাকা

ডিএসইতে মূলধন বাড়লো ২ লাখ কোটি টাকা

এসএসসি ২০০৬ ও এইচএসসি ২০০৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত 

এসএসসি ২০০৬ ও এইচএসসি ২০০৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত 

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৬

রেড নোটিশের ২ মানবপাচারকারী গ্রেফতার, বাকিরা নজরদারিতে

রেড নোটিশের ২ মানবপাচারকারী গ্রেফতার, বাকিরা নজরদারিতে

বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এমপিওভুক্তির দাবি

বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এমপিওভুক্তির দাবি

তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরেও তদন্তে ধীরগতি: শিক্ষার্থীর বাবা

তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরেও তদন্তে ধীরগতি: শিক্ষার্থীর বাবা

ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ২৩ প্রতারক গ্রেফতার

ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ২৩ প্রতারক গ্রেফতার

‘মানিক সাহার খুনিরা ধরা না পড়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে’

‘মানিক সাহার খুনিরা ধরা না পড়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে’

রাজারবাগে সম্প্রসারিত পুলিশ শপিং মলের উদ্বোধন

রাজারবাগে সম্প্রসারিত পুলিশ শপিং মলের উদ্বোধন

পি কে হালদারের ৬২ সহযোগীর হাজার কোটি টাকা জব্দ

পি কে হালদারের ৬২ সহযোগীর হাজার কোটি টাকা জব্দ

আসামির বক্তব্য প্রচার নিয়ে হাইকোর্টের আদেশে বিজেসির উদ্বেগ

আসামির বক্তব্য প্রচার নিয়ে হাইকোর্টের আদেশে বিজেসির উদ্বেগ

ছবিতে সাকরাইন উৎসব

ছবিতে সাকরাইন উৎসব


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.